রাষ্ট্রপতির সাক্ষাৎকার ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া। সরকার বলছে মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ নয়, বিষয়টি পর্যবেক্ষণে।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন-এর সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকার প্রকাশের পর দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। সাক্ষাৎকারে তিনি গত ১৮ মাসের অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালকে ‘চরম অবমাননাকর’ আখ্যা দিয়ে তার বিরুদ্ধে অসাংবিধানিক উপায়ে অপসারণের চেষ্টার অভিযোগ তোলেন।
দৈনিক কালের কণ্ঠ-এ প্রকাশিত ওই সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি দাবি করেন, তাকে ‘প্রাসাদবন্দি’ করে রাখা হয়েছিল এবং গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত বা বিদেশ সফর সম্পর্কে অবহিত করা হতো না। তিনি আরও অভিযোগ করেন, এক পর্যায়ে তাকে সরিয়ে একজন সাবেক প্রধান বিচারপতিকে রাষ্ট্রপতির পদে বসানোর চক্রান্ত হয়েছিল।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, দেশে প্রত্যেকের সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করা হবে এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় সরকার কোনোভাবেই হস্তক্ষেপ করবে না। “যে যার মতো করে কথা বলবেন, আর যারা জবাব দেওয়ার তারা জবাব দেবেন”—বলেন তিনি।
একইদিন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন জানান, রাষ্ট্রপতির সাক্ষাৎকারের বিষয়টি সরকার গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তিনি বলেন, সাক্ষাৎকারে বেশ কয়েকটি স্পর্শকাতর প্রসঙ্গ এসেছে, বিশেষ করে অন্তর্বর্তী সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা নিয়ে। পর্যালোচনা শেষে সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।
সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি আরও উল্লেখ করেন, কঠিন সময়ে একটি বড় রাজনৈতিক দল ও সশস্ত্র বাহিনী তার পাশে ছিল এবং সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় সহায়তা করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রপতির এই বক্তব্য চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিষয়টি সংসদ ও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতে পারে।
রাষ্ট্রপতির বক্তব্য ও সরকারের প্রতিক্রিয়া—দুই পক্ষের অবস্থানই এখন জনমতের নজরে। বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক সরকারি প্রতিক্রিয়া এলে রাজনৈতিক পরিস্থিতির আরও স্পষ্ট চিত্র পাওয়া যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অনলাইন ডেস্ক
Comments: