২০ এপ্রিল ২০২৬ | ৬ বৈশাখ ১৪৩৩
বাংলাদেশ
মঠবাড়িয়ায় ভুয়া কার্ডিওলজিস্টের ২ বছরের কারাদণ্ড: সুভাষ থেকে নুরুল হাসান

image

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ পরিচয়ে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা দিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে এক ভুয়া চিকিৎসককে ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। রোববার বিকেলে পৌর শহরের দক্ষিণ বন্দর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে এই দণ্ডাদেশ প্রদান করা হয়।


আটক ব্যক্তির প্রকৃত নাম সুভাষ চন্দ্র মোহন্ত। তিনি ধর্মান্তরিত হয়ে বর্তমানে নুরুল হাসান নাম ব্যবহার করছিলেন। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, তার বাড়ি উত্তরবঙ্গের বগুড়া, গাইবান্ধা ও জয়পুরহাট জেলার বিভিন্ন এলাকায় বলে তিনি ভিন্ন ভিন্ন সময়ে দাবি করতেন। প্রকৃত পরিচয় গোপন রাখতে তিনি সচেতনভাবে একাধিক ঠিকানা ব্যবহার করতেন।


প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই ব্যক্তি নিজেকে ‘ডা. লিয়াকত হোসেন’ পরিচয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে অবস্থিত বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে হৃদরোগ ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ হিসেবে রোগী দেখতেন। প্রায় এক মাস আগে এক গর্ভবতী নারীকে পরীক্ষা করে তার গর্ভের সন্তান মারা গেছে বলে ভুল তথ্য দেন তিনি। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পুনরায় আল্ট্রাসনোগ্রাফি করলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ডা. সৌমিত্র মজুমদার নিশ্চিত করেন, গর্ভের শিশুটি জীবিত ও সুস্থ রয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।


এরপর তার দেওয়া প্রেসক্রিপশন ও চিকিৎসা পদ্ধতিতে অসংগতি লক্ষ্য করে স্থানীয় চিকিৎসকদের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নজরদারিতে রেখে রোববার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. সৌমিত্র সিনহা প্রশাসনকে অবহিত করেন।
পরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুদীপ্ত দেবনাথের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালতের একটি দল দক্ষিণ বন্দর এলাকার সাদেকা ভিলার নিচতলায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে।


আটকের পর তিনি নিজের পরিচয় গোপন করতে একাধিক নাম ব্যবহার করেন। প্রথমে ‘ডা. লিয়াকত হোসেন’ দাবি করলেও বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) ডাটাবেজে তার কোনো নিবন্ধন পাওয়া যায়নি। পরে তিনি ‘ডা. নুরুল ইসলাম’ এবং সর্বশেষ ‘উরিং চাং’ নামে এক চিকিৎসকের পরিচয় দেওয়ার চেষ্টা করেন। জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি জাতীয় পরিচয়পত্র বা কোনো বৈধ কাগজপত্র প্রদর্শনেও ব্যর্থ হন।


পরবর্তীতে ম্যাজিস্ট্রেটের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিজের প্রকৃত পরিচয় স্বীকার করেন। মানুষের জীবন নিয়ে প্রতারণা এবং ভুয়া পরিচয়ে চিকিৎসা দেওয়ার অপরাধে তাকে ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুদীপ্ত দেবনাথ বলেন, সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভুয়া চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে তাৎক্ষণিকভাবে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।














মো. তানভীর হাসান
মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর)

ভিডিও
Comments:
Sponsered Ad
Advertisement Advertisement Advertisement Advertisement Advertisement Advertisement Advertisement Advertisement

loading