০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ২০ মাঘ ১৪৩২
বিশ্ব
১৯ দেশের নাগরিকদের গ্রিনকার্ড-নাগরিকত্ব স্থগিত করল যুক্তরাষ্ট্র

image

যুক্তরাষ্ট্র বৈধ অভিবাসন কাঠামোতে বড় পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তা ও জননিরাপত্তার উদ্বেগের কারণ দেখিয়ে ১৯ দেশের নাগরিকদের গ্রিনকার্ড ও নাগরিকত্ব আবেদন স্থগিত করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন ইউরোপের বাইরে থাকা মোট ১৯টি দেশের নাগরিকদের সব ধরনের বৈধ অভিবাসন আবেদন—গ্রিনকার্ড, ন্যাশনালাইজেশন (নাগরিকত্ব) ও স্ট্যাটাস পরিবর্তন—অস্থায়ীভাবে স্থগিত করেছে। জাতীয় নিরাপত্তা ও জননিরাপত্তার ঝুঁকি মূল্যায়নের অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সরকারি স্মারকে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে জুন মাসে এসব দেশের ওপর আংশিক ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। নতুন নীতিতে সেই নিষেধাজ্ঞাকে আরও কঠোর করা হলো। তালিকায় থাকা দেশগুলো হলো—
আফগানিস্তান, সোমালিয়া, বার্মা, চাড, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, ইকুয়েটোরিয়াল গিনি, এরিত্রিয়া, হাইতি, ইরান, লিবিয়া, সুদান, ইয়েমেন, বুরুন্ডি, কিউবা, লাওস, সিয়েরা লিওন, টোগো, তুর্কমেনিস্তান ও ভেনেজুয়েলা।

সরকারি নথিতে উল্লেখ আছে, স্থগিত আবেদনগুলোর পুনঃপর্যালোচনা বাধ্যতামূলক হবে এবং আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকার বা পুনঃসাক্ষাৎকার দিতে হতে পারে।

সরকারি ব্যাখ্যায় ওয়াশিংটনে এক আফগান নাগরিকের বিরুদ্ধে মার্কিন ন্যাশনাল গার্ড সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনাকে উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে একজন নিহত ও আরেকজন গুরুতর আহত হন। এছাড়া সোমালিয়ার কিছু নাগরিকের বিষয়ে প্রশাসনের কঠোর মন্তব্যও নীতির পেছনের যুক্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

আমেরিকান ইমিগ্রেশন লইয়ারস অ্যাসোসিয়েশন জানায়, নতুন সিদ্ধান্তের কারণে তালিকাভুক্ত দেশের অভিবাসন সাক্ষাৎকার, ন্যাশনালাইজেশন অনুষ্ঠান এবং স্ট্যাটাস পরিবর্তনের বিভিন্ন অ্যাপয়েন্টমেন্ট বাতিল করা হয়েছে।

এ বছরের জানুয়ারিতে দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসন আইন বাস্তবায়নে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে। তিনি বড় শহরগুলোতে ফেডারেল এজেন্ট নিয়োগ এবং যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে আশ্রয়প্রার্থীদের ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দেন। পূর্বে মূলত অবৈধ অভিবাসীদের ওপর নজর দিলেও এবার বৈধ অভিবাসন কাঠামোতেও পরিবর্তনের সিগন্যাল দিচ্ছে প্রশাসন।

প্রশাসনের দাবি, জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় বৈধ অভিবাসন সীমিত করা জরুরি, আর এর জন্য সাবেক প্রেসিডেন্ট বাইডেনের ‘শিথিল নীতি’কে দায়ী করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের এই কঠোর সিদ্ধান্তে তালিকাভুক্ত দেশগুলোর লাখো মানুষের অভিবাসন পরিকল্পনা অনিশ্চয়তায় পড়েছে। বৈধ অভিবাসনের পথ সংকুচিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। ভবিষ্যতে নীতিটি শিথিল করা হবে কি না—তা সময়ই বলে দেবে।













অনলাইন ডেস্ক

ভিডিও
Comments:
Sponsered Ad
Advertisement Advertisement Advertisement Advertisement Advertisement Advertisement Advertisement Advertisement

loading