সোশ্যাল মিডিয়ায় সম্প্রতি তথাকথিত “Epstein Files” ফাঁসের দাবিকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে তীব্র আলোচনা তৈরি হয়েছে। ভয়াবহ অপরাধের অভিযোগ, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম এবং গোপন নথির কথা বলা হলেও—এসব দাবির সত্যতা নিয়ে বড় প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
মার্কিন অর্থপতি জেফ্রি এপস্টেইন ২০১৯ সালে শিশু যৌন পাচার সংক্রান্ত মামলায় গ্রেপ্তার অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।
আদালতের নথি ও তদন্তে প্রমাণিত হয়, তিনি অপ্রাপ্তবয়স্কদের যৌন নিপীড়নের একটি নেটওয়ার্ক পরিচালনা করতেন।
সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় “Epstein Files ফাঁস” শিরোনামে বিপুল পরিমাণ যাচাই-বিহীন দাবি ও কনটেন্ট ছড়িয়ে পড়েছে।
এসব পোস্টে বহু আন্তর্জাতিক রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও সেলিব্রিটিদের নাম জড়ানো হলেও আইনগতভাবে প্রমাণিত বা আদালত-স্বীকৃত নথি হিসেবে এগুলোর বেশিরভাগের কোনো নিশ্চয়তা নেই।
মার্কিন বিচার বিভাগ ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, এপস্টেইন মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু নথি আদালতের নির্দেশে প্রকাশ পেলেও,
সেগুলোর অনেক অংশ সাক্ষ্য, অভিযোগ বা তৃতীয় পক্ষের বর্ণনা—চূড়ান্ত রায় নয়।
ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্থাগুলো সতর্ক করেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো অনেক কনটেন্ট ভিত্তিহীন ষড়যন্ত্র তত্ত্ব (conspiracy theory) বা বিকৃত তথ্যের উপর দাঁড়িয়ে আছে।
যাচাই ছাড়া এসব দাবি ছড়ানো ভুক্তভোগীদের জন্য ক্ষতিকর এবং আইনি ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে।
জেফ্রি এপস্টেইন মামলাটি নিঃসন্দেহে গুরুতর ও ভয়াবহ অপরাধের উদাহরণ। তবে সেই ঘটনার আড়ালে ভর করে আজ যে সব অতিরঞ্জিত ও যাচাই-বিহীন দাবি ছড়ানো হচ্ছে, সেগুলো সত্য অনুসন্ধানের বদলে বিভ্রান্তি বাড়াচ্ছে। পাঠকদের প্রতি আহ্বান—বিশ্বস্ত সংবাদমাধ্যম, আদালতের নথি ও ফ্যাক্ট-চেক করা তথ্যের ওপরই আস্থা রাখুন।
অনলাইন ডেস্ক
Comments: