যান্ত্রিক ত্রুটিতে মাঝ সাগরে ছয় দিন ভাসমান নৌকা—অনাহার ও পানির অভাবে প্রাণহানি, ২৬ জন জীবিত উদ্ধার। প্রতারণার শিকার হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা; নিহতদের বেশিরভাগ সুনামগঞ্জ ও সিলেটের।
লিবিয়া থেকে ইউরোপের দেশ গ্রিসে যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে অন্তত ২২ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে অন্তত ১৮ জন বাংলাদেশি। একই নৌকা থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে ২৬ জনকে, যাদের মধ্যে ২১ জনই বাংলাদেশি।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হলেও এটি নৌকাডুবির ঘটনা নয়। বরং নৌকায় যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় সেটি মাঝ সমুদ্রে প্রায় এক সপ্তাহ ভাসমান ছিল। এসময় খাদ্য ও পানির অভাবে একে একে মারা যান যাত্রীরা।
শুক্রবার ভোরে গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের কাছে ইউরোপীয় সীমান্ত সংস্থার একটি জাহাজ এক নারী ও এক শিশুসহ ২৬ জনকে উদ্ধার করে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের তথ্য অনুযায়ী, মৃতদের অনেকের মরদেহ সমুদ্রে ফেলে দিতে বাধ্য হয় বেঁচে থাকা যাত্রীরা।
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার পাইলগাঁও গ্রামের নিহত আমিনুর রহমানের ভাই মিজানুর রহমান জানান, একই সময়ে দুটি নৌকা যাত্রা শুরু করলেও একটি নিরাপদে পৌঁছালেও অপর নৌকাটি মাঝ সাগরে বিকল হয়ে পড়ে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ছয় দিন ধরে নৌকাটি সাগরে ভাসমান ছিল। যাত্রীদের অধিকাংশই অনাহার ও তীব্র পানির সংকটে মারা যান। যারা কিছু খাবার সঙ্গে রেখেছিলেন বা সাগরের পানি পান করতে পেরেছেন, তারাই বেঁচে থাকতে সক্ষম হয়েছেন।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত সুনামগঞ্জ জেলার অন্তত ১০ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে এক জীবিত উদ্ধারপ্রাপ্ত যুবক জানান, বড় নৌকার প্রলোভন দেখিয়ে তাদের ছোট একটি নৌকায় তোলা হয়। নৌকাটিতে ৫ জন সুদানের নাগরিক ও ৩৮ জন বাংলাদেশি ছিলেন।
তিনি আরও বলেন, মৃতদেহগুলো দুই দিন নৌকায় রাখার পর দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় সেগুলো সাগরে ফেলে দিতে বাধ্য হন তারা।
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন ২১ জন বাংলাদেশি, চারজন দক্ষিণ সুদানের নাগরিক এবং একজন চাদের নাগরিক। তাদের মধ্যে গুরুতর অসুস্থ দুইজনকে ক্রিটের হেরাক্লিয়ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
অবৈধভাবে ইউরোপে যাওয়ার ঝুঁকিপূর্ণ পথে আবারও প্রাণহানির ঘটনা সামনে এলো। দালালচক্রের প্রতারণা ও অনিরাপদ যাত্রা বহু পরিবারের স্বপ্নকে পরিণত করছে ট্র্যাজেডিতে। এ ধরনের ঘটনা রোধে সচেতনতা বৃদ্ধি ও কঠোর পদক্ষেপ জরুরি হয়ে পড়েছে।
অনলাইন ডেস্ক
Comments: