নতুন ইউনিফর্ম নিয়ে মাঠপর্যায়ে অস্বস্তি, সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি। পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের বিবৃতিতে খাকি পোশাকে ফেরার আহ্বান।
বাংলাদেশ পুলিশের পোশাক পরিবর্তন নিয়ে মাঠপর্যায়ের সদস্যদের অস্বস্তির বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে। নতুন ইউনিফর্মের রঙ ও নকশা নিয়ে আপত্তি জানিয়ে অনেক পুলিশ সদস্য পুরনো খাকি পোশাকে ফেরার দাবি তুলেছেন।
সোমবার রাতে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ও কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, তড়িঘড়ি করে নেওয়া এই সিদ্ধান্তে বাহিনীর অধিকাংশ সদস্যের মতামত নেওয়া হয়নি। বর্তমান পোশাকটি দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য, শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্বের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হলেও নতুন পোশাকে সেই বৈশিষ্ট্য প্রতিফলিত হয়নি।
অ্যাসোসিয়েশনের অভিযোগ, নতুন পোশাক নির্বাচনের ক্ষেত্রে সদস্যদের গায়ের রং, আবহাওয়া, দিন-রাতের দায়িত্ব পালনের সুবিধা এবং জনমত যাচাই যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি। পাশাপাশি অন্যান্য সংস্থার ইউনিফর্মের সঙ্গে সাদৃশ্য থাকায় পুলিশ সদস্যদের সহজে চিহ্নিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ২০০৩-২০০৪ সালে গঠিত একটি কমিটির দীর্ঘ যাচাই-বাছাই শেষে খাকি পোশাক নির্ধারণ করা হয়েছিল। সেই সময় দেশের আবহাওয়া ও পেশাগত বাস্তবতা বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
পোশাক পরিবর্তন একটি ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া বলেও মন্তব্য করেছে অ্যাসোসিয়েশন। তাদের মতে, বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই অর্থ বাহিনীর আধুনিকায়ন, থানা পর্যায়ে যানবাহন সরবরাহ ও লজিস্টিক সহায়তায় ব্যয় করা অধিক যুক্তিযুক্ত।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পুলিশ সদস্যদের বছরে পাঁচ সেট পোশাক সরবরাহ করা হয়। প্রায় ২১ বছর পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নতুন ইউনিফর্ম চালু করা হয়। জানুয়ারিতে পুলিশ, র্যাব ও অঙ্গীভূত আনসারের পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও পরবর্তীতে সমালোচনার মুখে র্যাব ও আনসারের ক্ষেত্রে পরিবর্তন কার্যকর হয়নি।
পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের মতে, রঙ বা নকশা নয়—মনোবল, পেশাদারিত্ব ও কার্যকারিতা বৃদ্ধিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সদস্যদের মতামত ও বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে—এমন প্রত্যাশাই বাহিনীর সদস্যদের।
অনলাইন ডেস্ক
Comments: