যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত যৌন নিপীড়ক জেফরি এপস্টেইন সংক্রান্ত বিপুল নথি প্রকাশের পর বিশ্বজুড়ে তোলপাড়। প্রকাশিত নথিতে উঠে এসেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ বহু প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম। গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে কৌতুকশিল্পী ট্রেভর নোয়ার মন্তব্য ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ অস্বীকার করে ট্রাম্প নোয়ার বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকি দিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (Department of Justice) গত শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি, প্রয়াত যৌন নিপীড়ক জেফরি এপস্টেইন সংক্রান্ত বিপুল পরিমাণ নথি প্রকাশ করে। এতে রয়েছে প্রায় ৩০ লাখ পৃষ্ঠা নথি, ১ লাখ ৮০ হাজার ছবি এবং ২ হাজার ভিডিও।
প্রকাশিত এসব নথিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম শত শত বার উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য ও রাজা তৃতীয় চার্লসের ভাই প্রিন্স অ্যান্ড্রু, প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক, বিল গেটস, ট্রাম্পের সাবেক উপদেষ্টা স্টিভ ব্যানন, নিউইয়র্ক জায়ান্টস দলের সহ-মালিক স্টিভ টিশসহ বহু রাজনৈতিক, ব্যবসায়িক ও দাতব্য জগতের প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে।
রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) রাতে অনুষ্ঠিত গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে উপস্থাপক ট্রেভর নোয়া এপস্টেইন ফাইলে নাম আসা ব্যক্তিদের নিয়ে রসিকতা করেন। ‘সং অব দ্য ইয়ার’ পুরস্কার ঘোষণার সময় তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্প, বিল ক্লিনটন ও এপস্টেইনের প্রসঙ্গ টানেন।
এর প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প বলেন, এসব মন্তব্য “মিথ্যা ও মানহানিকর”। তিনি দাবি করেন, কখনোই এপস্টেইনের দ্বীপে যাননি এবং এপস্টেইনের সঙ্গে তার কোনো বন্ধুত্ব ছিল না।
পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন,
“ভুল! আমি কখনোই এপস্টেইন দ্বীপে যাইনি। এমনকি কাছাকাছিও না।”
ট্রাম্প আরও জানান, ট্রেভর নোয়ার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি তিনি বিবেচনা করছেন।
এপস্টেইন ফাইল প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। প্রকাশিত নথি ও গ্র্যামি মঞ্চের রসিকতা—সব মিলিয়ে বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি ও বিনোদন জগতকে নাড়িয়ে দিয়েছে। সামনে এই ইস্যু আরও কতটা আইনি ও রাজনৈতিক রূপ নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে বিশ্ব।
অনলাইন ডেস্ক
Comments: