মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে কথিত মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ সামরিক অভিযান ঘিরে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমন্বিত ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন—এমন দাবি ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে চাঞ্চল্য ও কূটনৈতিক অস্থিরতা।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-তে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ফার্স নিউজ এজেন্সি। রোববার (১ মার্চ) স্থানীয় সময় সকালে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে এ খবর প্রচারিত হয়।
সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর পর ইরানে রোববার (১ মার্চ) থেকে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরান ইন্টারন্যাশনাল।
এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম Truth Social-এ দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনি নিহত হয়েছেন। পোস্টে তিনি লেখেন, “ইতিহাসের অন্যতম নিকৃষ্ট ব্যক্তি খামেনি মারা গেছেন,” এবং তার বাহিনীর হাতে নিহত অসংখ্য মানুষের জন্য এটি ‘সুবিচার’ বলে মন্তব্য করেন।
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা ও উন্নত ট্র্যাকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে খামেনির অবস্থান নির্ণয় করা সম্ভব হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সমন্বিত অভিযানে তার পালানোর সুযোগ ছিল না। তিনি আরও বলেন, ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর অনেক সদস্য যুদ্ধ চালিয়ে যেতে আগ্রহী নন এবং তারা দায়মুক্তি চাইছেন।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম Reuters, CNN ও BBC News-এর বরাতেও একই ধরনের দাবি প্রকাশিত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এদিকে খামেনির মেয়ে, জামাতা ও নাতিও একই হামলায় নিহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। তবে তাদের মৃত্যু কোথায় ও কীভাবে হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
অভিযানের কোডনাম ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ ঘিরে এখনো আনুষ্ঠানিক পূর্ণাঙ্গ বিবৃতি দেয়নি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ।
ইরানে রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণার পাশাপাশি সম্ভাব্য রাজনৈতিক ও সামরিক পরিবর্তন নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।
আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, তেলবাজার এবং কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর এর তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়তে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
খামেনি নিহতের দাবি ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন এক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ঘটনাটি সত্য হলে তা শুধু ইরান নয়, পুরো অঞ্চল এবং বৈশ্বিক রাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। আন্তর্জাতিক মহল এখন আনুষ্ঠানিক ও যাচাইকৃত তথ্যের অপেক্ষায় রয়েছে।
অনলাইন ডেস্ক
Comments: