ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলা প্রতিরোধে ব্যর্থতার জন্য আংশিক দায় স্বীকার করেছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম CBS News-কে দেওয়া এক ঘণ্টার সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, রাজনৈতিক, সামরিক এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার সব স্তরের লোকজনই এ ব্যর্থতার জন্য দায়ী।
তিনি দাবি করেন, মূল বিষয় এখন অতীত নয়, বরং হামলার পর ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়া এবং নিরাপত্তা পুনর্গঠন।
নেতানিয়াহু আরও বলেন, হামলার পর ইসরায়েলকে ‘মৃত্যুর ফাঁদ’ থেকে বের করে আনা তার সরকারের দায়িত্ব ছিল এবং তারা ইরান-সমর্থিত হুমকির বিরুদ্ধে ধারাবাহিক ব্যবস্থা নিয়েছে।
সাক্ষাৎকারে তিনি স্বাধীন রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশনের পরিবর্তে রাজনৈতিকভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত কমিশনের পক্ষে মত দেন। তবে জনমত জরিপে অধিকাংশ ইসরায়েলি নাগরিক স্বাধীন তদন্ত কমিশনের পক্ষে অবস্থান জানিয়েছেন বলে জানা যায়।
তিনি ইসরায়েলকে খ্রিস্টানদের প্রতি বৈরী হিসেবে উপস্থাপন করাকে “ভিত্তিহীন অপপ্রচার” বলে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ফিলিস্তিন ও ইরান ইস্যুতে ইসরায়েলের পারফরম্যান্স দুর্বল ছিল বলেও আংশিক স্বীকারোক্তি দেন।
এছাড়া দক্ষিণ লেবাননে যিশু খ্রিস্টের একটি মূর্তি ভাঙার ঘটনায় দুই ইসরায়েলি সৈন্যকে ৩০ দিনের কারাদণ্ড এবং যুদ্ধ দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নেওয়ার তথ্য সামনে আসে।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী Israel Defense Forces (IDF)-এর বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের সম্পদ লুট এবং কারাগারে নির্যাতনের অভিযোগও দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিতর্ক সৃষ্টি করছে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের সীমান্ত পার হয়ে চালানো হামলায় ইসরায়েলে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে, যা পরবর্তীতে গাজা যুদ্ধের সূচনা করে।
নেতানিয়াহুর আংশিক দায় স্বীকার এবং দোষ ভাগাভাগির বক্তব্য ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে, যা ভবিষ্যতে তদন্ত ও আন্তর্জাতিক চাপ আরও বাড়াতে পারে।
অনলাইন ডেস্ক
Comments: