৩১ মে ২০২৬ | ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বিশ্ব
ইরাক যুদ্ধ ছিল ‘বড় ভুল’, ইরান নীতিও প্রশ্নবিদ্ধ: ট্রাম্পের নতুন মন্তব্যে বিতর্ক

image

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরাক যুদ্ধে মার্কিন অংশগ্রহণকে ‘ভুল সিদ্ধান্ত’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সেখানে যাওয়া উচিত ছিল না। একই সঙ্গে তিনি ইরান নীতি নিয়েও অতীত অবস্থানের সমালোচনা করেন এবং দাবি করেন, সময়মতো পদক্ষেপ না নিলে ইরান পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জন করতে পারত।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরাক যুদ্ধ এবং ইরান বিষয়ে মার্কিন নীতির অতীত অবস্থান নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইরাকে মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপ ছিল একটি ভুল সিদ্ধান্ত এবং সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা পাঠানো উচিত হয়নি।

ট্রাম্প বলেন, “ইরাকে কী ঘটেছে তা দেখুন। আমরা খুব খারাপ করেছি। আমরা বোকামি করেছি। সেখানে আমাদের যাওয়া উচিত ছিল না।”

ইরান প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি আগে কিছু পদক্ষেপ না নিত, তাহলে দেশটি পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জন করতে পারত। তার মতে, কয়েক মাস আগে বি-২ বোমারু বিমান ব্যবহার করে হামলা না চালানো হলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারত।

তিনি আরও বলেন, “আমাদের ইরানেও যাওয়া উচিত হয়নি। তবে তাদের সক্ষমতা আছে। যদি আমরা আগে কিছু পদক্ষেপ না নিতাম, তাহলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারত।”

ট্রাম্পের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ইচ্ছাকৃতভাবে ইরানের সামরিক বাহিনীকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করার পথে যায়নি। তিনি মনে করেন, ইরানের সেনাবাহিনীর একটি বড় অংশ তুলনামূলকভাবে মধ্যপন্থী এবং দেশটির ভেতরে বিভিন্ন ধরনের গোষ্ঠী সক্রিয় রয়েছে।

তিনি বলেন, নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে অভিযান পরিচালনা করা হলেও পুরো সামরিক কাঠামো ধ্বংস করা হয়নি। কারণ, ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ কোনো দেশের পুনর্গঠনকে দীর্ঘমেয়াদি ও জটিল করে তোলে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও কূটনৈতিক ভূমিকা নিয়ে ট্রাম্পের এই মন্তব্য নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তার বক্তব্য ভবিষ্যৎ মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে তিনি ইরাক যুদ্ধকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বড় কৌশলগত ভুল হিসেবে দেখেন। একই সঙ্গে ইরান ইস্যুতে অতীত নীতির সমালোচনা করে তিনি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন হস্তক্ষেপের কার্যকারিতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছেন। তার এই অবস্থান আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক এবং আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।













অনলাইন ডেস্ক

ভিডিও
Comments:
Sponsered Ad
Advertisement Advertisement Advertisement Advertisement Advertisement Advertisement Advertisement Advertisement

loading