১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ৪ ফাল্গুন ১৪৩২
ব্রিটেন
২০২৬ থেকে যুক্তরাজ্যে কঠোর অভিবাসন আইন: ভিসায় বাড়ছে ইংরেজি দক্ষতার শর্ত, স্থায়ী বসবাসে লাগবে ১০–২০ বছর

image

নেট মাইগ্রেশন কমানোর লক্ষ্যে ২০২৬ সাল থেকে যুক্তরাজ্যে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন অভিবাসন নিয়ম, যা বিদেশি কর্মী ও অভিবাসীদের জন্য ভিসা ও স্থায়ী বসবাসের শর্তকে আরও কঠোর করবে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ওয়ার্ক ভিসায় ইংরেজি ভাষার মান বাড়ানো হচ্ছে এবং ইন্ডেফিনিট লিভ টু রিমেইন (ILR) পেতে অপেক্ষার সময় দ্বিগুণ বা তারও বেশি হতে পারে।

২০২৬ সালে যুক্তরাজ্যে অভিবাসন ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কার কার্যকর হতে চলেছে, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সরকারের নেট মাইগ্রেশন কমানোর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ভিসা ব্যবস্থায় একাধিক কড়া শর্ত আরোপ করা হচ্ছে।

মে মাসে প্রকাশিত সরকারের অভিবাসন শ্বেতপত্রের ভিত্তিতে তৈরি এসব পদক্ষেপের ফলে ব্রিটেনে আসা অনেক অভিবাসীর জন্য প্রক্রিয়া আরও কঠিন হয়ে উঠবে। এর মধ্যে অন্যতম হলো বিদেশি কর্মীদের জন্য ইংরেজি ভাষার দক্ষতার শর্ত উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি।

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ৮ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কিছু প্রধান ওয়ার্ক-সম্পর্কিত ভিসার ক্ষেত্রে ইংরেজি ভাষার মান B1 স্তর থেকে বাড়িয়ে B2 স্তরে উন্নীত করা হবে, যা A-লেভেলের সমমান হিসেবে ধরা হয়।

এই পরিবর্তন মূলত স্কিলড ওয়ার্কার ভিসা, স্নাতক ভিসা ও স্কেল-আপ ভিসার নতুন আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। তবে বর্তমানে যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত ভিসাধারীরা, যারা তাদের থাকার মেয়াদ বাড়াতে আবেদন করবেন, তারা এই বাড়তি শর্তের আওতায় পড়বেন না।

গত অক্টোবরে স্বরাষ্ট্র সচিব শাবানা মাহমুদ প্রথম এই পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেন। তিনি বলেন,
“যারা এই দেশে আসতে চান, তাদের অবশ্যই আমাদের ভাষা শিখতে হবে। আমাদের ভাষা না শিখে জাতীয় জীবনে অবদান রাখা সম্ভব নয়।”

নতুন সংস্কারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো “অর্জিত বসতি (Earned Settlement)” মডেল চালু করা। এর আওতায় অভিবাসীদের স্থায়ী বসবাসের যোগ্যতা অর্জনের সময়সীমা ৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করা হবে। কিছু ক্ষেত্রে এই অপেক্ষার সময় ১৫ থেকে ২০ বছর পর্যন্ত হতে পারে।

স্বরাষ্ট্র অফিস জানিয়েছে, ২০২১ সাল থেকে যুক্তরাজ্যে আসা আনুমানিক ২৬ লাখ অভিবাসীর ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। তবে যারা ইতোমধ্যে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পেয়েছেন, তারা এই পরিবর্তনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না।

১২ মাসের কম সময়ের জন্য বেনিফিট গ্রহণকারী বৈধ অভিবাসীদের স্থায়ী মর্যাদা পেতে ১৫ বছর অপেক্ষা করতে হবে। দীর্ঘমেয়াদে বেনিফিটের উপর নির্ভরশীলদের ক্ষেত্রে এই সময়সীমা ২০ বছর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

এছাড়া, ব্রেক্সিট-পরবর্তী স্বাস্থ্য ও সামাজিক যত্ন ভিসায় আসা কর্মীদের জন্যও ILR পাওয়ার সময়সীমা ৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ১৫ বছর করা হতে পারে।

সরকারি পরামর্শ প্রক্রিয়া ফেব্রুয়ারিতে শেষ হওয়ার পর, এসব পরিবর্তন ২০২৬ সালের বসন্ত থেকে ধাপে ধাপে কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

২০২৬ সালের নতুন অভিবাসন আইন যুক্তরাজ্যে বসবাস ও কাজ করতে ইচ্ছুক অভিবাসীদের জন্য এক নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে আসছে। ইংরেজি দক্ষতা বৃদ্ধি থেকে শুরু করে স্থায়ী বসবাসে দীর্ঘ অপেক্ষা—সব মিলিয়ে এই সংস্কার ব্রিটেনের অভিবাসন নীতিকে আরও কঠোর ও নিয়ন্ত্রিত করে তুলবে।













অনলাইন ডেস্ক

ভিডিও
Comments:
Sponsered Ad
Advertisement Advertisement Advertisement Advertisement Advertisement Advertisement Advertisement Advertisement

loading