যুক্তরাজ্যের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান স্যার রিচার্ড নাইটন বলেছেন, সম্ভাব্য পূর্ণাঙ্গ সংঘাতের জন্য দেশটি এখনো প্রয়োজনীয় মাত্রায় প্রস্তুত নয়। সংসদীয় প্রতিরক্ষা কমিটির সামনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দীর্ঘমেয়াদি বাজেট ঘাটতি ও প্রস্তুতির সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করেন।
বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী চার বছরে প্রতিরক্ষা ব্যয় নির্বাহ করতে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত প্রায় ২৮ বিলিয়ন পাউন্ড প্রয়োজন হবে। এই ঘাটতির কারণে সরকারের প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ পরিকল্পনা নতুন করে সাজানোর চাপ তৈরি হয়েছে।
স্যার রিচার্ড জানান, প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ পরিকল্পনার প্রকাশের নির্দিষ্ট সময়সীমা এখনও নির্ধারিত হয়নি, তবে এ নিয়ে বিভাগ পূর্ণাঙ্গভাবে কাজ করছে।
ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন এবং যুক্তরাষ্ট্রে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পুনর্নির্বাচনের পর ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর ওপর প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর চাপ বেড়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় যুক্তরাজ্যে লেবার পার্টি ২০২৭ সালের মধ্যে প্রতিরক্ষা ব্যয় জাতীয় আয়ের ২.৫ শতাংশে উন্নীত করার অঙ্গীকার করেছিল।
স্যার রিচার্ড বড়দিনের আগে প্রধানমন্ত্রী স্যার কেয়ার স্টারমার ও চ্যান্সেলরের কাছে প্রতিরক্ষা বাজেটে সম্ভাব্য ঘাটতির বিষয়টি তুলে ধরেন। যদিও আলোচনার বিষয়বস্তু গোপন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, অভ্যন্তরীণ স্থিতিস্থাপকতা, রেলপথ ও বন্যা প্রতিরোধ অবকাঠামোর সুরক্ষা, এমনকি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ পরিস্থিতিতে আহত সৈন্যদের চিকিৎসা দিতে এনএইচএস প্রস্তুতির ক্ষেত্রেও যুক্তরাজ্য এখনো পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনার অভাবে ভুগছে।
পূর্ণাঙ্গ সংঘাতের আশঙ্কা বাড়তে থাকলেও যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি ও বাজেট কাঠামো এখনো বড় চ্যালেঞ্জের মুখে। সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানের এই সতর্কবার্তা ভবিষ্যতে প্রতিরক্ষা ব্যয়, অবকাঠামো ও জাতীয় নিরাপত্তা নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
অনলাইন ডেস্ক
Comments: