যুক্তরাজ্যে কাজের অধিকার প্রমাণে বাধ্যতামূলক ডিজিটাল আইডি চালুর পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে সরকার। তবে কাজের অধিকার যাচাই প্রক্রিয়া ডিজিটালই থাকবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কর্মীদের আর আলাদা করে ডিজিটাল আইডি বহন করতে হবে না। পাসপোর্টসহ প্রচলিত নথি দিয়েই কাজের অধিকার প্রমাণ করা যাবে।
বিবিসির খবরে জানা গেছে, যুক্তরাজ্য সরকার কাজের অধিকার যাচাইয়ের ক্ষেত্রে ডিজিটাল আইডি বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত বাতিল করেছে। যদিও কাজের অধিকার যাচাই পুরোপুরি ডিজিটাল পদ্ধতিতে সম্পন্ন করা হবে, তবে কর্মীদের জন্য আলাদা ডিজিটাল আইডি বহন করা আর প্রয়োজন হবে না।
গত বছর এই নীতি ঘোষণার সময় প্রধানমন্ত্রী স্যার কেয়ার স্টারমার বলেছিলেন, “ডিজিটাল আইডি ছাড়া যুক্তরাজ্যে কাজ করা যাবে না।” কিন্তু নতুন সিদ্ধান্তে সেই অবস্থান থেকে সরকার সরে এসেছে।
রক্ষণশীল দলের নেতা কেমি ব্যাডেনক এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এটি একটি “ভয়াবহ নীতি” থেকে সরে আসার উদাহরণ এবং সরকারের আরেকটি ইউ-টার্ন।
সরকার প্রথমে দাবি করেছিল, বাধ্যতামূলক ডিজিটাল আইডি অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে সহায়ক হবে। তবে এখন এই উদ্যোগকে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের চেয়ে সরকারি সেবার ডিজিটাল রূপান্তরের অংশ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।
ইনস্টিটিউট ফর গভর্নমেন্টের এক সম্মেলনে মন্ত্রী ড্যারেন জোন্স জানান, শিগগিরই এ বিষয়ে গণপরামর্শ শুরু হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী বছর ডিজিটাল আইডি নিয়ে জনমত আরও ইতিবাচক হবে।
এই নীতির বিরুদ্ধে গত সেপ্টেম্বরে প্রায় ৩০ লাখ মানুষ সংসদীয় পিটিশনে স্বাক্ষর করেছিলেন। লিবারেল ডেমোক্র্যাট, গ্রিন পার্টি ও রিফর্ম ইউকে নেতারাও সিদ্ধান্ত পরিবর্তনকে স্বাগত জানিয়েছেন।
বর্তমানে নিয়োগকর্তারা পাসপোর্ট ও হোম অফিসের অনলাইন যাচাইকরণ ব্যবস্থার মাধ্যমে কাজের অধিকার পরীক্ষা করতে পারেন। ভবিষ্যতে Gov.uk One Login ও Gov.uk Wallet–এর মাধ্যমে ডিজিটাল যাচাই আরও সহজ করা হবে।
বাধ্যতামূলক ডিজিটাল আইডি থেকে সরে এসে যুক্তরাজ্য সরকার ব্যক্তিস্বাধীনতা ও প্রযুক্তিনির্ভর সেবার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার পথ বেছে নিয়েছে। যদিও ডিজিটাল যাচাই প্রক্রিয়া চালু থাকবে, তবে নাগরিকদের জন্য এটি আর বাধ্যতামূলক নয়—এটাই সরকারের নতুন অবস্থান।
অনলাইন ডেস্ক
Comments: