দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে অতীত সম্পর্ককে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হওয়ায় লেবার পার্টির সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করেছেন যুক্তরাজ্যের সাবেক মন্ত্রী লর্ড পিটার ম্যান্ডেলসন। দলকে আর কোনোভাবে ‘বিব্রত’ করতে চান না বলেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের নথিতে নাম আসার পর দায় এড়াতে দলীয় পদত্যাগ।
জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে নতুন বিতর্কের জেরে লেবার পার্টির সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করেছেন সাবেক ক্যাবিনেট মন্ত্রী লর্ড পিটার ম্যান্ডেলসন। লেবার পার্টির মহাসচিবকে লেখা চিঠিতে তিনি জানান, এপস্টেইনকে ঘিরে সৃষ্ট জনক্ষোভের সঙ্গে নিজেকে আবার যুক্ত করা হওয়ায় তিনি দুঃখিত ও অনুতপ্ত।
শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস) প্রকাশিত সর্বশেষ নথিতেও লর্ড ম্যান্ডেলসনের নাম উঠে আসে। নথিগুলোতে দাবি করা হয়েছে, ২০০৩ ও ২০০৪ সালে এপস্টেইন তিন দফায় ২৫ হাজার ডলার করে মোট ৭৫ হাজার ডলার (প্রায় ৫৫ হাজার পাউন্ড) তাকে দিয়েছিলেন।
লর্ড ম্যান্ডেলসন এসব আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এ বিষয়ে তার কোনো নথি বা স্মৃতি নেই এবং বিষয়টি তদন্ত করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, এই তদন্ত প্রক্রিয়ায় লেবার পার্টিকে আর কোনো বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলতে চান না বলেই তিনি দল থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন।
২০০৮ সালে এপস্টেইনের দণ্ডের পরও তার সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন ম্যান্ডেলসন। নির্যাতনের শিকার নারী ও কিশোরীদের কাছে তিনি ‘নিঃশর্ত ক্ষমা’ প্রার্থনা করেন। ইমেইল ও নথিতে প্রকাশিত কিছু ছবির বিষয়ে তিনি জানান, ছবিগুলো কোথায় তোলা বা সেখানে থাকা নারী কে—তা তিনি মনে করতে পারছেন না।
জেফ্রি এপস্টেইন কেলেঙ্কারিকে ঘিরে নতুন করে প্রকাশিত নথি যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে আবারও আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। অভিযোগ অস্বীকার করলেও রাজনৈতিক ও নৈতিক দায়ের জায়গা থেকে লর্ড পিটার ম্যান্ডেলসনের পদত্যাগ লেবার পার্টির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অনলাইন ডেস্ক
Comments: