বাংলাদেশের বিশেষ জজ আদালত দুর্নীতির অভিযোগে ব্রিটিশ লেবার পার্টির এমপি টিউলিপ সিদ্দিককে দুই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। অভিযোগে বলা হয়, তিনি পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কারচুপি ও প্রভাবিত করে পরিবারের সদস্যদের জন্য সরকারি জমি বরাদ্দ আদায় করেছিলেন।
রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, টিউলিপ, তার মা শেখ রেহানা সিদ্দিক, বোন আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তী এবং ভাই রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববির জন্য ঢাকার উপকণ্ঠে ৭,২০০ বর্গফুট আয়তনের তিনটি প্লট অবৈধভাবে সংগ্রহ করা হয়। আদালত আরও বলে, ব্রিটিশ এমপি হিসেবে টিউলিপ “নিঃসন্দেহে তার পদমর্যাদার প্রভাব ব্যবহার করেছিলেন।”
শেখ হাসিনা গত মাসে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হন। তিনি ২০২৪ সালের আগস্টে সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলনের সময় ভারতে পালিয়ে যান।
কারাদণ্ডের সঙ্গে টিউলিপ সিদ্দিককে ১,০০,০০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে আরও ছয় মাসের অতিরিক্ত কারাদণ্ড হতে পারে।
টিউলিপ সিদ্দিক রায়কে “ত্রুটিপূর্ণ, প্রহসনমূলক ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” বলে দাবি করেছেন।
তিনি বলেন, “এই তথাকথিত রায়কে তার প্রাপ্য অবমাননার সাথেই বিবেচনা করা উচিত।”
তার আইনি দল অভিযোগ করে যে টিউলিপ ন্যায্য বিচার পাওয়ার সুযোগ পাননি এবং অভিযোগের বিস্তারিতও সময়মতো জানানো হয়নি।
লেবার পার্টির মুখপাত্র জানায়, ন্যায্য বিচার নিশ্চিত না হওয়ায় তারা এই রায়কে স্বীকৃতি দিতে পারছে না।
বাংলাদেশের দুদক টিউলিপ, শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার বিরুদ্ধে আরও একাধিক দুর্নীতির মামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
টিউলিপ এখনো কোনো প্রাক-বিচার শুনানিতে উপস্থিত হননি এবং তার নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি রয়েছে।
তদন্তকারী কর্মকর্তা দাবি করেন, শেখ হাসিনা পরিবার-স্বার্থে ক্ষমতার অপব্যবহার গোপন করেছিলেন, আর টিউলিপ সেই প্রক্রিয়াকে সক্রিয়ভাবে প্রভাবিত করেন।
বাংলাদেশে দুর্নীতির অভিযোগে টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে ঘোষিত রায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। টিউলিপ রায়কে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করলেও বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ বলছে—প্রমাণের ভিত্তিতেই রায় দেওয়া হয়েছে। মামলার আরও কয়েকটি ধাপ এখনো বিচারাধীন, যা ভবিষ্যতে এই বিতর্ককে আরও দীর্ঘায়িত করতে পারে।
অনলাইন ডেস্ক
Comments: