লন্ডনের হ্যাকনিতে অবস্থিত মসবোর্ন ভিক্টোরিয়া পার্ক একাডেমি (MVPA) সম্পর্কে স্থানীয় শিশু সুরক্ষা অনুশীলন পর্যালোচনায় উঠে এসেছে গুরুতর অভিযোগ। শিক্ষার্থীদের ওপর চিৎকার করা, ভয় দেখানো, কঠোর শাস্তিমূলক নীতি প্রয়োগ এবং বিশেষ শিক্ষাগত চাহিদা ও প্রতিবন্ধী (SEND) শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে যথাযথ সমন্বয় না করার মতো অভিযোগ সামনে এসেছে।
পর্যালোচনাটি করেছেন প্রখ্যাত শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও প্রাক্তন একাডেমি ট্রাস্ট প্রধান নির্বাহী স্যার অ্যালান উড। তিনি বলেন, “নেতৃত্বের প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান এবং গভর্নর বোর্ডের ব্যর্থতার কারণে ক্ষতিকারক অনুশীলনগুলো অনিয়ন্ত্রিতভাবে চলতে থেকেছে।”
এমভিপিএ-এর বিরুদ্ধে অভিভাবক ও প্রাক্তন শিক্ষকদের দাবির ভিত্তিতেই এই সুরক্ষা পর্যালোচনা শুরু হয়েছিল।
নিয়মিত চিৎকার ও অপমানের অভিযোগ
পর্যালোচনায় দেখা গেছে চিৎকার করা ব্যতিক্রম নয়, বরং ছিল “নিয়মিত অনুশীলন”—যা শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে অপমানিত ও আতঙ্কিত করেছে।
এছাড়া দেখা গেছে, করিডোরে ডেস্কে বসিয়ে ছোটখাটো শাস্তি দেওয়া হতো, যা অনেক ক্ষেত্রে SEND শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করেছে।
SEND শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত প্রভাব
পর্যালোচনায় উল্লেখ করা হয়, SEND শিক্ষার্থীদের তাদের শারীরিক বা মানসিক অবস্থার কারণে হওয়া আচরণের জন্যও শাস্তি প্রদান করা হয়েছে—যা যুক্তিসঙ্গত সমন্বয়ের স্পষ্ট ব্যত্যয়।
এমনকি তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নির্দিষ্ট জাতিগত গোষ্ঠীর শিক্ষার্থীরা বৈষম্যমূলক শাস্তির শিকার হয়েছেন।
অভিভাবকদের অভিযোগ ‘উপেক্ষা’
অভিভাবকরা অভিযোগ করেছেন যে স্কুলের অভিযোগ ব্যবস্থা ছিল “একটি প্রতিরক্ষামূলক ঢাল”—যেখানে উদ্বেগ ও অভিযোগগুলোকে নিয়মিতভাবে হালকাভাবে নেওয়া হয়েছে বা ভয় দেখানোর মাধ্যমে দমন করা হয়েছে।
উচ্চ রেজাল্টের আড়ালে দমনমূলক সংস্কৃতি?
MVPA পূর্বে অফস্টেডের প্রাক্তন রেটিং সিস্টেমে “অসাধারণ” গ্রেড পেয়েছিল।
২০২৫ সালে স্কুলের ৭০.৫% শিক্ষার্থী ইংরেজি ও গণিতে গ্রেড ৫ বা তার ওপরে পেয়েছে—যা স্থানীয় ও জাতীয় গড়ের চেয়ে বেশি।
তবে ২০২৪ সালে অবজারভার পত্রিকার প্রতিবেদনে উঠে আসে শিক্ষার্থীদের চিৎকারের ভয়ে বাথরুমে যেতে না পারা এবং নিজেদের নোংরা করে ফেলার মতো চরম ঘটনার অভিযোগ।
ট্রাস্টের প্রতিক্রিয়া
মসবোর্ন ফেডারেশন জানিয়েছে, রিপোর্টটি সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে সিটি অ্যান্ড হ্যাকনি সেফগার্ডিং চিলড্রেন পার্টনারশিপের কমিশনার জিম গ্যাম্বল বলেন, “স্কুল অসাধারণ একাডেমিক সাফল্য অর্জন করলেও সব শিক্ষার্থীর জন্য সমান সহায়তার পরিবেশ তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছে।”
লন্ডনের অন্যতম উচ্চমানের এমভিপিএ একাডেমির বিরুদ্ধে প্রকাশিত এই রিপোর্ট শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, মানসিক স্বাস্থ্য এবং স্কুলের আচরণ ব্যবস্থাপনা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। উচ্চ একাডেমিক ফলাফলের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা শৃঙ্খলামূলক অপব্যবহার এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পর্যালোচনা ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপই নির্ধারণ করবে শিক্ষার্থী নিরাপত্তার মান কতটা উন্নত হবে।
অনলাইন ডেস্ক
Comments: