মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক অভিযানে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে লক্ষ্য করা হলেও যুক্তরাজ্য এতে “কোনওভাবেই” জড়িত ছিল না বলে জানিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী।
দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতিতে আগে তথ্য যাচাই ও মিত্রদের সঙ্গে আলোচনা করতে চান কেয়ার স্টারমার।
ভেনেজুয়েলায় মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক অভিযানের বিষয়ে যুক্তরাজ্য কোনোভাবেই জড়িত নয় বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কেয়ার স্টারমার। তিনি বলেন, কারাকাসে পরিচালিত অভিযানে যুক্তরাজ্যের কোনো ভূমিকা ছিল না এবং এই বিষয়ে তিনি এখনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেননি।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্টারমার বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত দ্রুত পরিবর্তনশীল। তাই কোনো অবস্থান নেওয়ার আগে তিনি তথ্য যাচাই করতে চান এবং প্রথমে ট্রাম্প ও অন্যান্য মিত্র দেশের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন।
প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, ভেনেজুয়েলায় অবস্থানরত প্রায় ৫০০ ব্রিটিশ নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাজ্যের দূতাবাস সক্রিয়ভাবে কাজ করছে এবং নাগরিকদের যথাযথ পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, একটি সামরিক অভিযানের মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে দেশ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বিবিসির উত্তর আমেরিকান অংশীদার সিবিএস নিউজের তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে মার্কিন এলিট ডেল্টা ফোর্সের সদস্যরা অংশ নেন।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিউইয়র্কে মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্র সংক্রান্ত অভিযোগ আনা হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে আপাতত আর কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা নেই।
এদিকে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা মার্কিন অভিযানের সমালোচনা করেছেন। লিবারেল ডেমোক্র্যাট নেতা স্যার এড ডেভি এই অভিযানের নিন্দা জানাতে প্রধানমন্ত্রীকে আহ্বান জানিয়েছেন। গ্রিন পার্টি নেতা জ্যাক পোলানস্কি এটিকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
অন্যদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ কূটনীতিক কাজা কালাস জানান, ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং যেকোনো অবস্থায় আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রাখতে হবে।
ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক অভিযানের ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হলেও যুক্তরাজ্য নিজেকে এ ঘটনা থেকে দূরে রাখার অবস্থান নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমারের বক্তব্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাজ্য সংযম ও কূটনৈতিক আলোচনার পথেই এগোতে চায়।
অনলাইন ডেস্ক
Comments: