অবৈধ অভিবাসী ও বিদেশি অপরাধী ফেরত নিতে অস্বীকৃতি জানানোয় অ্যাঙ্গোলা, নামিবিয়া ও ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য। হোম সেক্রেটারি শাবানা মাহমুদ সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই দেশগুলোর নাম ঘোষণা করবেন। নিষেধাজ্ঞায় পর্যটক, ভিআইপি ও সাধারণ নাগরিক—সবাই প্রভাবিত হতে পারেন।
যুক্তরাজ্যে থাকা অবৈধ অভিবাসী ও বিদেশি অপরাধীদের ফেরত নিতে দীর্ঘদিন ধরে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে অ্যাঙ্গোলা, নামিবিয়া ও ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো। এই তিন দেশ মিলে বর্তমানে যুক্তরাজ্যে থাকা ৪,০০০-এর বেশি অবৈধ অভিবাসীকে ফিরিয়ে নিচ্ছে না। এ কারণে ট্রাম্প প্রশাসনের পদক্ষেপ অনুসরণ করে যুক্তরাজ্য প্রথমবারের মতো ন্যাশনালিটি অ্যান্ড বর্ডারস অ্যাক্ট ২০২২ ব্যবহার করে ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। হোম সেক্রেটারি শাবানা মাহমুদ জানিয়েছেন, সহযোগিতাহীন দেশগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে তিনি প্রস্তুত—“যেসব দেশ অপরাধী ও অবৈধ অভিবাসী ফেরত নিতে অস্বীকৃতি জানাবে, তারা যুক্তরাজ্যে প্রবেশাধিকার হারাবে।”
লন্ডনে অবস্থিত তিন দেশের দূতাবাসে ইতোমধ্যেই আনুষ্ঠানিক নোটিশ পাঠানো হয়েছে। সহযোগিতা না করলে কূটনীতিক ও ভিআইপি শ্রেণির জন্য দ্রুত-ট্র্যাক ভিসা সুবিধা বাতিল করা হবে। ধাপে ধাপে নিষেধাজ্ঞা বাড়িয়ে পর্যটক ও সাধারণ নাগরিকদের ভিসাও বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, নাইজেরিয়া, সোমালিয়া ও গ্যাবনও ভবিষ্যতে একই ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শরণার্থী নীতিতে বড় পরিবর্তন আনা হচ্ছে—অবৈধভাবে আসলে স্থায়ী বসতি পাওয়ার আগে ২০ বছর অপেক্ষা করতে হবে, যা ইউরোপের সবচেয়ে দীর্ঘ সময়। দূতাবাসগুলোর ধীর কাগজপত্র প্রক্রিয়াকরণ এবং বহিষ্কারযোগ্য ব্যক্তিদের সম্মতি দিতে বাধ্য করার মতো বিষয়গুলোকে যুক্তরাজ্য “অসহযোগিতা” হিসেবে দেখছে।
অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাজ্য এবার কঠোর পথে হাঁটছে। আফ্রিকার তিন দেশের ওপর সম্ভাব্য ভিসা নিষেধাজ্ঞা শুধু তাদের জন্যই নয়—অন্য দেশগুলোর জন্যও সতর্কবার্তা। স্বরাষ্ট্র দপ্তর পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিয়েছে, “সহযোগিতা না করলে যুক্তরাজ্যে প্রবেশাধিকার বন্ধ।” ফলে আগামী কয়েক সপ্তাহেই ইউকে–অভিবাসন নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।
অনলাইন ডেস্ক
Comments: