০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ২০ মাঘ ১৪৩২
ব্রিটেন
যুক্তরাজ্যে বেনিফিট দাবিতে রেকর্ড বৃদ্ধি: অভিবাসীদের জন্য কঠোর ‘Earned Settlement’ আইন আসছে

image

যুক্তরাজ্যে অভিবাসীদের বেনিফিট দাবি রেকর্ড সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। প্রতিদিন শত শত বিদেশি নাগরিক ইউনিভার্সাল ক্রেডিটে নাম লেখাচ্ছেন। নতুন আইনে অভিবাসীদের যুক্তরাজ্যে স্থায়ী হওয়ার শর্ত কঠোর হতে যাচ্ছে। যারা বেনিফিটের ওপর নির্ভরশীল তাদের ILR পাওয়ার সময় বাড়বে এবং বহিষ্কারের ঝুঁকিও তৈরি হবে।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে প্রতিদিন প্রায় ৫০০ অভিবাসী বেনিফিটের জন্য সাইন আপ করছেন, যা দেশটির সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বাড়তি চাপ তৈরি করছে। সম্প্রতি প্রকাশিত তথ্য অনুসারে, গত মাসে প্রতিদিন প্রায় ৪৭২ জন বিদেশি নাগরিক ইউনিভার্সাল ক্রেডিট দাবি করতে শুরু করেছেন, ফলে মোট দাবিদারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১.৩ মিলিয়ন, যা এক বছরে ৬.৭% বৃদ্ধি।

এই বাস্তবতায় স্বরাষ্ট্র সচিব শাবানা মাহমুদ নতুন আইন প্রবর্তনের ঘোষণা দিয়েছেন, যা অভিবাসীদের স্থায়ী বসবাসের অধিকার (ILR) “Earned Settlement” নীতির ওপর নির্ভরশীল করবে।

নতুন ব্যবস্থায়—

অভিবাসীদের নিজেদের ভরণপোষণ করার সক্ষমতা প্রমাণ করতে হবে

জাতীয় বীমা (National Insurance) নিয়মিত প্রদান করতে হবে

অপরাধমুক্ত সনদ বাধ্যতামূলক

উচ্চমানের ইংরেজি ভাষা দক্ষতা প্রয়োজন

স্বেচ্ছাসেবী কাজ বা সামাজিক অবদানকে গুরুত্ব দেওয়া হবে

বর্তমানে যাদের ILR পাওয়ার জন্য ৫ বছর অপেক্ষা করতে হয়, নতুন আইনে তাদের ১০ বছর অপেক্ষা করতে হবে—যদি না কেউ আর্থিকভাবে বা সমাজে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখে।

সরকার মনে করছে, পদক্ষেপ না নিলে ২০২০ সালের “বরিসওয়েভ”-এর অংশ হিসেবে আসা প্রায় ১.৬ মিলিয়ন অভিবাসী আগামী বছরগুলোতে বেনিফিট বিলে বড়সড় চাপ সৃষ্টি করতে পারে, কারণ ৮০০,০০০-এর বেশি মানুষ কম বেতনের কাজ করছেন, যা তাদের ইউনিভার্সাল ক্রেডিটের জন্য যোগ্য করে তোলে।

যারা বেনিফিটের ওপর নির্ভরশীল বা আইন ভঙ্গ করেন, তাদের ILR পাওয়ার সময় বাড়বে এবং ভিসা নবায়নের সময় বহিষ্কারের ঝুঁকি তৈরি হবে।

টেলিগ্রাফকে এক সরকারি সূত্র জানিয়েছে—“অবদান রাখলে আগে ILR পাওয়া যাবে, অবদান না রাখলে আরও দেরি হবে।”

সোমবার ঘোষিত বড়সড় আশ্রয় নীতির পরিবর্তনের পর এই নতুন অভিবাসন নীতি আসছে, যেখানে শরণার্থীদের যুক্তরাজ্যে থাকার স্বয়ংক্রিয় অধিকার বাতিল করা হয়েছে।

লেবার সরকার রাজনৈতিক চাপের মুখে এই কঠোর নীতি নিচ্ছে, যেখানে রিফর্ম ইউকের নেতা নাইজেল ফ্যারেজ আরও কঠোর ভিসা নীতি চেয়েছিলেন।

টোরি দলও কম বেতনের অভিবাসীদের স্থায়ী বসবাস না দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

ছায়া স্বরাষ্ট্র সচিব ক্রিস ফিলপ বলেছেন—ব্রিটিশ করদাতাদের ওপর “অতিরিক্ত চাপ” বন্ধে অভিবাসীদের বেনিফিট সীমিত করা জরুরি।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মাত্র চার বছরের মধ্যে বিদেশি নাগরিকদের ইউনিভার্সাল ক্রেডিট দাবি ৪৪% বৃদ্ধি পেয়েছে — ৮৮৩,০০০ থেকে এখন ১.২৭ মিলিয়ন।

যুক্তরাজ্যের নতুন অভিবাসন নীতি স্পষ্ট করছে যে বেনিফিটের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে সমাজে বাস্তব অবদান রাখাই হবে স্থায়ী বসবাসের প্রধান শর্ত। কর্মসংস্থান, আর্থিক স্বাধীনতা ও সামাজিক অংশগ্রহণ এখন থেকে অভিবাসীদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে।














অনলাইন ডেস্ক

ভিডিও
Comments:
Sponsered Ad
Advertisement Advertisement Advertisement Advertisement Advertisement Advertisement Advertisement Advertisement

loading