০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ২০ মাঘ ১৪৩২
ব্রিটেন
যুক্তরাজ্যে নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার আশঙ্কা, বাংলাদেশিসহ ঝুঁকিতে ৯০ লাখ মুসলিম

image

যুক্তরাজ্য সরকারের নাগরিকত্ব বাতিলের চরম ও গোপন ক্ষমতা দেশটির লাখো মুসলিম নাগরিককে গুরুতর ঝুঁকির মুখে ফেলছে বলে সতর্ক করেছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো। গত বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) রানিমেড ট্রাস্ট ও রিপ্রিভ প্রকাশিত এক যৌথ গবেষণা প্রতিবেদনে এই উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাজ্যের প্রায় ৯০ লাখ মানুষ—যা দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৩ শতাংশ—স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সিদ্ধান্তে নাগরিকত্ব হারানোর সম্ভাব্য ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। বর্তমান আইনে সরকার যদি মনে করে কোনো ব্যক্তি অন্য কোনো দেশের নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্য, তাহলে তার ব্রিটিশ নাগরিকত্ব বাতিল করা যেতে পারে।

অধিকারকর্মীদের মতে, এই ক্ষমতা দক্ষিণ এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার দেশগুলোর সঙ্গে পারিবারিক বা বংশগত সম্পর্ক রয়েছে—এমন নাগরিকদের ওপর অসমভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে। এমনকি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কখনো ওই দেশে বসবাস না করলেও বা নিজেকে সে দেশের নাগরিক হিসেবে পরিচয় না দিলেও নাগরিকত্ব বাতিল হতে পারে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, সোমালিয়া, নাইজেরিয়া, উত্তর আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে সম্পর্ক থাকা ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। এতে নাগরিকত্বের একটি কার্যত বর্ণভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাস তৈরি হয়েছে, যেখানে শ্বেতাঙ্গ ব্রিটিশ নাগরিকরা তুলনামূলকভাবে এই ঝুঁকির বাইরে থাকছেন।

রিপ্রিভের প্রতিনিধি মায়া ফোয়া বলেন, রাজনৈতিক সুবিধার জন্য আগের সরকার মানব পাচারের শিকার ব্রিটিশ নাগরিকদেরও নাগরিকত্ব কেড়ে নিয়েছিল, আর বর্তমান সরকার এই ক্ষমতা আরও বিস্তৃত করেছে।

রানিমেড ট্রাস্টের পরিচালক শাবনা বেগম বলেন, নাগরিকত্ব বাতিলের ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত ও যথেচ্ছ ক্ষমতা ব্রিটেনের মুসলিম জনগোষ্ঠীকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

পরিসংখ্যান ও বিশ্লেষণ:

রিপ্রিভ ও রানিমেড ট্রাস্টের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, অশ্বেতাঙ্গ জনগোষ্ঠীর পাঁচজনের মধ্যে তিনজন নাগরিকত্ব হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন, যেখানে শ্বেতাঙ্গ ব্রিটিশদের ক্ষেত্রে এই হার মাত্র ২০ জনে একজন।

ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রায় ৯ লাখ ৮৪ হাজার, পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ৬ লাখ ৭৯ হাজার এবং বাংলাদেশিসহ মোট ৩৩ লাখ এশীয় ব্রিটিশ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীর মধ্যে রয়েছেন। বাস্তবে যাদের নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়েছে, তাদের বড় অংশই দক্ষিণ এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার বংশোদ্ভূত মুসলিম।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, নাগরিকত্ব বাতিলের এই চরম ও গোপন ক্ষমতা যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী মুসলিম ও অশ্বেতাঙ্গ জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা ও সমান অধিকারের জন্য বড় হুমকি। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, ভবিষ্যতে কর্তৃত্ববাদী সরকার এ ক্ষমতার অপব্যবহার করলে লাখো মানুষ রাষ্ট্রহীনতার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।














অনলাইন ডেস্ক

ভিডিও
Comments:
Sponsered Ad
Advertisement Advertisement Advertisement Advertisement Advertisement Advertisement Advertisement Advertisement

loading