২৮ জুন ২০২৬ | ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলাদেশ
নওগাঁ শহরের ৯ হোটেলে গভীর রাতে একযোগে তল্লাশি, প্রতারক চক্রের ৪ সদস্যসহ ৫ জন গ্রেপ্তার

image

নওগাঁ সদর থানা এলাকায় একই দিনে সংঘটিত প্রতারণা এবং রাসায়নিক স্প্রে বা কথিত ‘শয়তানের নিঃশ্বাস’ প্রয়োগের মাধ্যমে স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নেওয়ার দুটি পৃথক ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে ব্যাপক অভিযান চালিয়েছে নওগাঁ জেলা পুলিশ। পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নির্দেশনায় পরিচালিত এ অভিযানে গত ২৭ জুন গভীর রাতে নওগাঁ শহরের নয়টি আবাসিক হোটেলে একযোগে তল্লাশি চালিয়ে প্রতারক চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার এবং চোরাই স্বর্ণ কেনার অভিযোগে আরও একজনকে আটক করা হয়েছে। একই সঙ্গে চুরি যাওয়া স্বর্ণের একটি অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রথম ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য অপরাধী ও পলাতক সহযোগীদের গ্রেপ্তার এবং অবশিষ্ট মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ জুন নওগাঁ সদর থানা এলাকায় একই দিনে প্রতারণা এবং রাসায়নিক স্প্রে বা কথিত ‘শয়তানের নিঃশ্বাস’ প্রয়োগের মাধ্যমে দুটি স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটে।

প্রথম ঘটনায়, ২৩ জুন বেলা আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে নওগাঁ শহরের চুরিপট্টি এলাকার নওগাঁ মিষ্টান্ন ভান্ডারের সামনে ফাতেমা বেগম (৭০) নামে এক বৃদ্ধাকে কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তি রাসায়নিক স্প্রে বা কথিত ‘শয়তানের নিঃশ্বাস’ প্রয়োগ করে অচেতন করে। পরে কৌশলে তাকে একটি রিকশায় তুলে তার শরীরে থাকা একটি স্বর্ণের চেইন, এক জোড়া কানের দুল এবং নগদ পাঁচ হাজার টাকা নিয়ে ডিগ্রীর মোড় ময়লা ফেলার স্থানে অচেতন অবস্থায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২৫ জুন তিনি মারা যান।

একই দিন দ্বিতীয় ঘটনায়, এক বৃদ্ধ দম্পতি ছেলের বাড়িতে যাওয়ার পথে ঢাকা বাসস্ট্যান্ড থেকে লিটন ব্রিজের মাঝামাঝি এলাকায় দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে প্রতারক চক্রের সদস্যরা স্বর্ণের বার পাওয়ার লোভ দেখিয়ে তাদের প্রতারণার ফাঁদে ফেলে। পরে রাসায়নিক স্প্রে বা কথিত ‘শয়তানের নিঃশ্বাস’ প্রয়োগ করে সম্মোহিত অবস্থায় জোরপূর্বক তাদের কাছ থেকে ছয় আনা ওজনের এক জোড়া স্বর্ণের কানের দুল নিয়ে যায়।

এ দুটি ঘটনার পর নওগাঁ সদর থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়। বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে নওগাঁ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) জয়ব্রত পাল, নওগাঁ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান এবং জেলা গোয়েন্দা শাখার সমন্বয়ে একটি বিশেষ তদন্ত টিম গঠন করা হয়।

পুলিশ সুপারের নির্দেশে সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে একটি বিশেষ অভিযানিক দল গত ২৭ জুন গভীর রাতে নওগাঁ শহরের নয়টি আবাসিক হোটেলে একযোগে অভিযান পরিচালনা করে। একই সঙ্গে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানেও তল্লাশি চালানো হয়।

বিরামহীন অভিযানের একপর্যায়ে নওগাঁ সদর থানাধীন নওগাঁ রেস্টহাউস হোটেল এবং শহরের অন্যান্য এলাকা থেকে গাইবান্ধা জেলার বাসিন্দা মো. আব্দুল হাই, মো. এরশাদ আলী ও বাবলু এবং দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা মো. কালামকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারের পর ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করে, তারা চারজনসহ আরও দুই থেকে তিনজন সহযোগী মিলে ঢাকা বাসস্ট্যান্ড থেকে লিটন ব্রিজের মাঝামাঝি এলাকায় সংঘটিত দ্বিতীয় ঘটনায় স্বর্ণের বার দেখিয়ে প্রতারণা এবং রাসায়নিক স্প্রে বা কথিত ‘শয়তানের নিঃশ্বাস’ প্রয়োগের মাধ্যমে বৃদ্ধ দম্পতির স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নেয়।

তদন্তে আরও জানা যায়, দ্বিতীয় ঘটনায় চুরি হওয়া স্বর্ণের কানের দুল আসামি মো. এরশাদ আলী নওগাঁ স্বর্ণপট্টি বাজারের মুহিব জুয়েলার্সের ম্যানেজার মো. জাহাঙ্গীরের কাছে বিক্রি করেন। পরে জেলা গোয়েন্দা শাখা এরশাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে জাহাঙ্গীরকে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি চোরাই স্বর্ণ কেনার বিষয়টি স্বীকার করেন এবং জানান, কানের দুল জোড়া ইতোমধ্যে গলিয়ে ফেলা হয়েছে। পরে তার দেখানো মতে গলানো অবস্থায় চার আনা স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, জাহাঙ্গীর এর আগেও নওগাঁ জেলার স্বর্ণপট্টিতে চোরাই স্বর্ণ ক্রয়-বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

ধৃত আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানা যায়, অন্যান্য স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ তাদের পলাতক সহযোগীদের কাছে রয়েছে। প্রথম ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য অপরাধী এবং পলাতক সহযোগীদের গ্রেপ্তার করে অবশিষ্ট চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধারে নওগাঁ জেলা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।














মো. এ কে নোমান, নওগাঁ 

ভিডিও
Comments:
Sponsered Ad
Advertisement Advertisement Advertisement Advertisement Advertisement Advertisement Advertisement Advertisement

loading