১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ৪ ফাল্গুন ১৪৩২
বাংলাদেশ
পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই ঘন্টার পর ঘন্টা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’: সিলেটে বিদ্যুৎ বিভ্রাটে জনজীবনে চরম ভোগান্তি

image

সামান্য রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের অজুহাতে কোনো ধরনের আগাম নোটিশ ছাড়াই সিলেট নগরী ও আশপাশের এলাকায় ঘন্টার পর ঘন্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হচ্ছে। এতে ব্যাহত হচ্ছে অফিস, ব্যবসা, শিক্ষা ও গৃহস্থালির স্বাভাবিক কার্যক্রম।

গত দুই-তিন মাস ধরে নিয়মিতভাবে, বিশেষ করে শনিবারসহ বিভিন্ন দিনে সিলেটে বিদ্যুৎ বিভাগের ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি চলমান থাকলেও সাধারণ গ্রাহকদের জানানো হচ্ছে না নির্দিষ্ট সময়সূচি।

সিলেটে টুনকো কাজ বা রক্ষণাবেক্ষণের নাম করে পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই ঘন্টার পর ঘন্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। গত দুই মাসে একাধিকবার নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ দেওয়া হয়েছে, যার ফলে সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী ও অফিসগামীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।

স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, শুধু ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসেই মেরামতের অজুহাতে অন্তত ৯ বার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। ডিসেম্বর মাসে ৬, ১৩, ১৪, ১৮ ও ২০ তারিখ এবং জানুয়ারিতে ৬, ১৭, ২৪ ও ২৬ তারিখে বিভিন্ন এলাকায় শাটডাউন কার্যকর করা হয়।

গত রোববার (সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৫টা) নগরীর শাহজালাল উপশহরের বিভিন্ন ব্লক, ভারতীয় হাইকমিশন, পুলিশ কমিশনার কার্যালয়সহ আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়। আজ সোমবার একই কারণে নগরী ও আশপাশের ৬২টি এলাকায় প্রায় ৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকে। নির্ধারিত সময় পেরিয়েও বিদ্যুৎ না আসায় লোডশেডিং পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।

বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন অফিস, দোকান ও গৃহস্থালির কাজে যুক্ত মানুষ। হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় থমকে যাচ্ছে অনলাইন ও গুরুত্বপূর্ণ দাপ্তরিক কাজ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শপিংমল ও সরকারি দপ্তরেও দেখা দিচ্ছে দীর্ঘ সময়ের বিদ্যুৎ সংকট।

জিন্দাবাজার এলাকার বাসিন্দা মো. জাফরুল আনোয়ার বলেন,

“হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় আমার গুরুত্বপূর্ণ কাজ বন্ধ হয়ে যায়। কোনো নোটিশ ছিল না। পরে কাজ শেষ করতে গিয়ে সময় ও টাকা—দুটোই নষ্ট হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন,

“শীতকালেই যদি এমন অবস্থা হয়, গরমকালে কী হবে তা ভেবেই আতঙ্ক লাগে।”

বিদ্যুৎ বিভ্রাটের প্রভাব পড়ছে স্বাস্থ্যসেবাতেও। হাসপাতালগুলোকে জরুরি সেবা দিতে জেনারেটরের উপর নির্ভর করতে হচ্ছে, যা বাড়াচ্ছে খরচ ও রোগীদের ঝুঁকি।

সংক্ষুব্ধ নাগরিক আন্দোলনের সমন্বয়ক আব্দুল করিম কিম বলেন,

“নোটিশ ছাড়া বিদ্যুৎ বন্ধ করা দায়িত্বহীনতা। জনবল সংকটের অজুহাতে নগরবাসীকে দুর্ভোগে ফেলা চলতে পারে না।”

 কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

সিলেট বিভাগীয় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, জরুরি মেরামতের কারণে সব সময় আগাম জানানো সম্ভব হয় না।

অন্যদিকে, বিভাগীয় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবদুল কাদির বলেন,

“রক্ষণাবেক্ষণ, সঞ্চালন লাইন উন্নয়ন ও গাছপালা ছাঁটাইয়ের কারণে সাময়িক বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করতে হচ্ছে। চলমান উন্নয়ন প্রকল্প এই মাসের মধ্যেই শেষ হবে।”

তিনি আরও জানান, ঢাকা থেকে দেওয়া লোডশেডিং প্ল্যান অনুসরণ করতে হচ্ছে এবং পূর্ব ঘোষণা ও মাইকিংয়ের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

পূর্ব ঘোষণা ছাড়া ঘন ঘন বিদ্যুৎ শাটডাউন সিলেট নগরীর জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। উন্নয়ন প্রকল্পের পাশাপাশি যদি স্বচ্ছ সময়সূচি, আগাম নোটিশ ও জনসচেতনতা নিশ্চিত না করা হয়, তাহলে নাগরিক ভোগান্তি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
















অনলাইন ডেস্ক

ভিডিও
Comments:
Sponsered Ad
Advertisement Advertisement Advertisement Advertisement Advertisement Advertisement Advertisement Advertisement

loading