ভূমিকম্পের পরিপ্রেক্ষিতে সিলেট, চট্টগ্রাম ও নরসিংদী এলাকায় সব গ্যাস কূপে ড্রিলিং কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছে পেট্রোবাংলা। নরসিংদী অঞ্চলের ভূস্তরীয় প্লাটিলেট অস্থিতিশীল অবস্থায় থাকায় বিশেষ সতর্কতা; ভূমিকম্পের পর ড্রিলিং কাজ ৪৮–৭২ ঘণ্টার জন্য বন্ধ রাখার পরামর্শ।
রবিবার বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ কর্পোরেশন (পেট্রোবাংলা) থেকে পাঠানো নির্দেশনায় জানানো হয়েছে, ভূমিকম্পের পরিপ্রেক্ষিতে সিলেট, চট্টগ্রাম ও নরসিংদী অঞ্চলে পরিচালিত সব গ্যাস কূপের ড্রিলিং কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখতে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন (বাপেক্স) জানিয়েছে, নরসিংদী জেলায় অবস্থিত ভূস্তরীয় প্লাটিলেট অত্যন্ত অস্থিতিশীল। সামান্য কম্পনও ভূ-অবস্থানকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলতে পারে। তাই ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টার জন্য এই এলাকায় সমস্ত প্রকার ড্রিলিং কাজ বন্ধ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া সিলেট, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রাম বিভাগের অন্য জেলায় পরিচালিত পেট্রোবাংলার প্রাকৃতিক গ্যাস কূপ খনন কাজও ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টার জন্য সাময়িক স্থগিত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (২২ নভেম্বর) সকাল ১০টা ৩৬ মিনিটে সাভার বাইপাইল এলাকায় ৩.৩ মাত্রার একটি মৃদু কম্পন রেকর্ড হয়। সন্ধ্যায় রাজধানীর বাড্ডায় পরপর দু’বার কম্পন অনুভূত হয়—প্রথম কম্পনের মাত্রা ছিল ৩.৭ এবং এক সেকেন্ড পর দ্বিতীয় কম্পনের মাত্রা ৪.৩।
এর আগে শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকালে নরসিংদীতে রিখটার স্কেলে ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে সারা দেশে ১০ জনের মৃত্যু হয়। সাধারণত এমন তীব্র কম্পনের পর আফটারশক বা ছোট কম্পনের সম্ভাবনা থাকে।
ভূমিকম্পের পর প্রাকৃতিক গ্যাস কূপের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সতর্কতা অঞ্চলের অস্থিতিশীল ভূ-প্রকৃতিকে আরও ঝুঁকিমুক্ত রাখার জন্য অত্যন্ত জরুরি।
অনলাইন ডেস্ক
Comments: