পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলা কৃষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে রূপান্তর (RUPANTAR) HELVETAS-এর “Reducing Pollution and Improving the Ecology of the Sundarbans” প্রকল্পের আওতায় ২৫ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে প্লাস্টিক ও পলিথিন দূষণ প্রতিরোধে একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা বিনিময় কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে আয়োজিত এ কর্মশালা সুন্দরবনের পরিবেশগত সুরক্ষা, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং দূষণ হ্রাসে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ রাইসুল ইসলাম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কামরুন্নেসা সুমি, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা দীনেশচন্দ্র মজুমদার, উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ জিয়ায়ুল ইসলাম। রূপান্তরের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুরের প্রজেক্ট অফিসার সাহিদা বানু সনিয়া। এছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ, স্থানীয় প্রতিনিধিসহ পরিবেশ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কর্মশালায় অংশ নেন।
কর্মশালায় বক্তারা বলেন, সুন্দরবন শুধু একটি বনাঞ্চল নয়; এটি বাংলাদেশের উপকূলীয় জীবন-প্রকৃতি ও অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি। বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ অরণ্যটি বর্তমানে প্লাস্টিক ও পলিথিন বর্জ্যের ভয়াবহ চাপে রয়েছে। নদী–খাল, উপকূলীয় এলাকা, স্থানীয় বাজার এবং বসতিগুলোতে অবাধে ছড়িয়ে পড়া এসব বর্জ্য জলজ ও স্থলজ প্রাণীর স্বাভাবিক পরিবেশ ধ্বংস করছে এবং দীর্ঘমেয়াদে মানবজীবনেও ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে। তারা বলেন, দূষণ নিয়ন্ত্রণে শুধু আইন প্রণয়ন যথেষ্ট নয়; বরং সমাজের প্রতিটি স্তরে সচেতনতা সৃষ্টি, দায়িত্বশীল আচরণ এবং প্লাস্টিকের বিকল্প উপকরণ ব্যবহারের প্রবণতা বাড়াতে হবে।
সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা জানান, প্লাস্টিক ও পলিথিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত আইন আরও কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে এবং স্থানীয় পর্যায়ে তদারকি বৃদ্ধি করা হবে। তারা জোর দিয়ে বলেন যে, পরিবেশ অধিদপ্তর, স্থানীয় প্রশাসন, কৃষি বিভাগ, বন বিভাগ, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বিত প্রচেষ্টা ছাড়া সুন্দরবনের আশপাশের এলাকায় দূষণ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। বাজার ব্যবস্থাপনা, নদীপথে নৌযান চলাচল, পর্যটন কার্যক্রম এবং স্থানীয় ব্যবহারে পৃথক নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।
বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা জানান, মাঠপর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি কার্যক্রম, প্লাস্টিক সংগ্রহ ও পুনর্ব্যবহার উদ্যোগ, স্কুল–কলেজে পরিবেশ শিক্ষা সম্প্রসারণ এবং মানুষের আচরণগত পরিবর্তন আনতে দীর্ঘমেয়াদি প্রচেষ্টা জোরদার করা হবে। তাদের মতে, সুন্দরবনকে দূষণমুক্ত রাখতে সরকারের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সক্রিয় ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অংশগ্রহণকারীরা বলেন, জেলে, কৃষক, বনজীবী ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট শ্রমিক—এদের মধ্যে বিকল্প উপকরণ ব্যবহারের অভ্যাস তৈরি করতে পারলে প্লাস্টিক বর্জ্য দ্রুত কমানো সম্ভব। তারা উল্লেখ করেন যে, পরিবেশ রক্ষা কেবল প্রকল্পনির্ভর হওয়া উচিত নয়; বরং এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক আন্দোলনে রূপ নিতে হবে। কর্মশালায় সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলো পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময় করে ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করার বিষয়ে একমত পোষণ করেন।
দিনব্যাপী এ কর্মশালা সুন্দরবনের নাজুক পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় প্লাস্টিক ও পলিথিন দূষণ প্রতিরোধে একটি কার্যকর ও সময়োপযোগী উদ্যোগ হিসেবে প্রশংসিত হয়। অংশগ্রহণকারীরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের কর্মশালা মাঠপর্যায়ে বাস্তব পরিবর্তন আনতে সহায়ক হবে এবং সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সম্পদ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আরও নিরাপদ থাকবে।
রিলাক্স মিডিয়া/তানভীর হাসান
Comments: