০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ২০ মাঘ ১৪৩২
বাংলাদেশ
জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ: শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের মৃত্যুদণ্ড

image

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রথম রায়—সাবেক সরকারপ্রধান ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে শাস্তি। মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে প্রথমবারের মতো কোনো সাবেক প্রধানমন্ত্রী মৃত্যুদণ্ডের রায় পেলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থান চলাকালে নির্দেশ, অস্ত্র ব্যবহার ও প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় এ রায় দেওয়া হয়।

চব্বিশের জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

একই মামলায় দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হওয়ায় সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সোমবার বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১ এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। অন্যান্য সদস্য ছিলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

এটি দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো সাবেক সরকারপ্রধানের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায়। মামলার দুই নম্বর অভিযোগে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড, এবং এক নম্বর অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রায়ে ট্রাইব্যুনাল বলেছে—জুলাই গণ–অভ্যুত্থান দমনে শেখ হাসিনা ড্রোন, হেলিকপ্টার ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দেন, যা সুপিরিয়র কমান্ড রেসপন্সিবিলিটির আওতায় অপরাধ হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সাবেক আইজিপি এই নির্দেশ বাস্তবায়ন করেন।

৪৫৩ পৃষ্ঠার রায়ে আদালত আন্দোলনের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে গুলি চালানো, হত্যার ঘটনা, হেলিকপ্টার থেকে গুলির নির্দেশ, দমন-পীড়নের অডিও-ভিডিও প্রমাণ আদালতে উপস্থাপিত বিবরণসহ তুলে ধরে।

ট্রাইব্যুনাল রায়ের শুরুতে জুরিসডিকশন, অভিযোগসমূহ এবং রোম স্ট্যাটিউট অনুযায়ী সুপিরিয়র কমান্ড রেসপন্সিবিলিটি ব্যাখ্যা করে।

শেখ হাসিনার টেলিফোন আলাপের অডিও—যেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি এএসএম মাকসুদ কামাল, সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু যুক্ত ছিলেন—সেটি রায়ে উল্লেখ করা হয়।

যাত্রাবাড়ী, রামপুরা, বাড্ডা, সাভার, আশুলিয়া, রংপুরসহ বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের ওপর প্রাণঘাতী গুলিবর্ষণের প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করা হয়।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার প্রকাশিত রিপোর্টও আদালতে পড়ে শোনানো হয়।

রায়টি বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) এবং অন্যান্য প্রচারমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

গত ২৩ অক্টোবর যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ার পর ১৩ নভেম্বর রায় ঘোষণার দিন ধার্য করা হয়।

জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় এ রায় বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থায় নতুন অধ্যায় সৃষ্টি করেছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী থেকে শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তা—সবাইকে একই আইনের আওতায় বিচার করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল। রায় ঘোষণার পর দেশব্যাপী রাজনৈতিক অঙ্গন ও নাগরিক সমাজে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।













অনলাইন ডেস্ক

ভিডিও
Comments:
Sponsered Ad
Advertisement Advertisement Advertisement Advertisement Advertisement Advertisement Advertisement Advertisement

loading