০২ মার্চ ২০২৬ | ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২
খেলা
যুদ্ধের ছায়া বিশ্বকাপে, ২০২৬ আসর থেকে সরে দাঁড়াতে পারে ইরান

image

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাতের প্রভাব এবার সরাসরি আঘাত হেনেছে ফুটবল অঙ্গনে। মার্কিন হামলার প্রতিবাদে ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ থেকে নাম প্রত্যাহারের ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান ফুটবল ফেডারেশন।

আগামী 2026 FIFA World Cup-এ খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে ইরান। সূচি অনুযায়ী, তাদের তিনটি গ্রুপ ম্যাচই যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে হওয়ার কথা ছিল। ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে যাত্রা শুরু করার কথা, এরপর ২১ জুন বেলজিয়াম এবং ২৬ জুন সিয়াটলে মিসরের মুখোমুখি হওয়ার সূচি নির্ধারিত ছিল।

তেহরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে ফেডারেশন সভাপতি Mehdi Taj বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর আমাদের পক্ষে বিশ্বকাপ নিয়ে ভাবা কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট শীর্ষ কর্মকর্তারা।”

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান অংশগ্রহণ করলে গ্রুপ পর্বে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনাও ছিল, যা রাজনৈতিক ও ক্রীড়াঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিত। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সম্ভাবনা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ইরানের সব ঘরোয়া ফুটবল লিগ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। এতে দেশটির লিগে খেলা বিদেশি ফুটবলাররা চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।

Antonio Adán ইতিমধ্যে মাদ্রিদে ফিরে গেছেন। অন্যদিকে স্প্যানিশ-মরক্কান ফরোয়ার্ড Munir El Haddadi এবং সাবেক ভায়াদোলিদ তারকা Iván Sánchez সড়কপথে ইরান ছাড়ার চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে।

বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক দেশ Mexico-তেও অস্থিরতা বাড়ছে। গুয়াদালাজারা শহরে মাদক কার্টেল ও সেনাবাহিনীর সংঘর্ষে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে।

ড্রাগ কার্টেল নেতা El Mencho সামরিক অভিযানে নিহত হওয়ার পর তার সমর্থকরা রাস্তায় যানবাহন পোড়ানো ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গণপরিবহন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

একদিকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ, অন্যদিকে মেক্সিকোর নিরাপত্তা সংকট—সব মিলিয়ে বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থার উদ্বেগ বাড়ছে।

২০২৬ বিশ্বকাপকে ঘিরে বৈশ্বিক উন্মাদনার মাঝেই যুদ্ধ ও সহিংসতা বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। ইরান যদি শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ বয়কট করে, তবে তা শুধু ক্রীড়া নয়, আন্তর্জাতিক কূটনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করবে। আয়োজক দেশগুলোর নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত উন্নত না হলে আসন্ন বিশ্বকাপ আয়োজন বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।














অনলাইন ডেস্ক

ভিডিও
Comments:
Sponsered Ad
Advertisement Advertisement Advertisement Advertisement Advertisement Advertisement Advertisement Advertisement

loading