ঈদ ও রমজানকে কেন্দ্র করে প্রবাসী আয়ের জোয়ার, বৈধ চ্যানেলে প্রবাহ বাড়ায় ভাঙল আগের সব রেকর্ড। দেশের ইতিহাসে একক মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছে চলতি বছরের মার্চে। প্রবাসীদের পাঠানো অর্থে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে বাংলাদেশ, যা অর্থনীতিতে ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।
বাংলাদেশে প্রবাসী আয়ে (রেমিট্যান্স) নতুন ইতিহাস তৈরি হয়েছে। চলতি বছরের মার্চ মাসে প্রবাসীরা মোট ৩ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার দেশে পাঠিয়েছেন, যা স্বাধীনতার পর একক কোনো মাসে সর্বোচ্চ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়, এর আগে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছিল ২০২৫ সালের মার্চে—৩ দশমিক ২৯ বিলিয়ন ডলার। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে সেই রেকর্ড ভেঙে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে দেশ।
গত বছরের ডিসেম্বর মাসে প্রবাসীরা পাঠিয়েছিলেন ৩ দশমিক ২২ বিলিয়ন ডলার, যা বর্তমানে তৃতীয় সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, মার্চের শুরু থেকেই রেমিট্যান্স প্রবাহ ছিল ঊর্ধ্বমুখী। রমজান ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে প্রবাসীরা বেশি অর্থ পাঠানোয় পুরো মাসজুড়ে এই প্রবণতা বজায় ছিল।
খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদকে কেন্দ্র করে রেমিট্যান্স বাড়া স্বাভাবিক। মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশগুলোতে কর্মসংস্থান এখনও স্থিতিশীল রয়েছে এবং জীবনযাত্রার ব্যয় তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রিত থাকায় প্রবাসীরা নিয়মিত অর্থ পাঠাতে পারছেন।
তবে তারা সতর্ক করছেন, সামনের মাসগুলোতে এই প্রবাহ কিছুটা কমে আসতে পারে।
অন্যদিকে, হুন্ডি বা অবৈধ চ্যানেল কমে আসায় বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানোর হার বেড়েছে, যা নতুন রেকর্ড গড়তে বড় ভূমিকা রেখেছে।
ব্যাংকভিত্তিক তথ্যে দেখা গেছে—
রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ৬৪ কোটি ডলারের বেশি
বিশেষায়িত ব্যাংক (কৃষি ব্যাংক) মাধ্যমে এসেছে ৪৬ কোটি ৪৭ লাখ ডলার
বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ২৬৪ কোটি ডলার
বিদেশি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ১ কোটি ২০ হাজার ডলার
এদিকে ৭টি ব্যাংকের মাধ্যমে কোনো রেমিট্যান্স আসেনি, যার মধ্যে রয়েছে রাকাব, আইসিবি ইসলামি ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংকসহ কয়েকটি বিদেশি ব্যাংক।
মার্চ মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহের এই রেকর্ড বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য বড় ইতিবাচক সংকেত। তবে এই ধারা দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখতে হলে বৈধ চ্যানেল আরও শক্তিশালী করা এবং নতুন শ্রমবাজার সৃষ্টি করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অনলাইন ডেস্ক
Comments: