৪১ জন পরিবার–বন্ধুর ভিসা আবেদন সমর্থনে চিঠি পাঠানোর ঘটনায় তদন্ত শেষে কাউন্সিলের পদক্ষেপ। কাউন্সিলের আচরণ কমিটির সিদ্ধান্ত মেনে নিলেন স্বতন্ত্র কাউন্সিলর মোহাম্মদ ইসলাম।
উত্তর লন্ডনের এনফিল্ডের প্রাক্তন মেয়র ও স্বতন্ত্র কাউন্সিলর মোহাম্মদ ইসলাম তাঁর পরিবার ও পরিচিতদের ৪১টি ভিসা আবেদন সমর্থনে ঢাকাস্থ ব্রিটিশ হাইকমিশনে চিঠি পাঠানোর ঘটনায় কাউন্সিলের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চান।
মেয়র থাকা অবস্থায় তিনি একাধিকবার অফিসিয়াল লেটারহেড ব্যবহার করে এবং কখনো ভুয়া কাগজ তৈরি করে এসব তদবির করেন। এ ঘটনায় তদন্ত শেষে এনফিল্ড কাউন্সিলের আচরণ কমিটি তাঁকে—
লিখিতভাবে ক্ষমা চাইতে,
আচরণবিধি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে,
এবং অতীতের মেয়র ব্যাজ ব্যবহার না করতে নির্দেশ দেয়।
২০২৪ সালের আগস্টে কাউন্সিলের পদ থেকে পদত্যাগ করা মোহাম্মদ ইসলাম বর্তমানে স্বাধীন কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। লেবার পার্টি তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়ে তাকে দল থেকে বরখাস্ত করেছে।
ইসলাম তাঁর ক্ষমাপ্রার্থনা পত্রে লেখেন যে তাঁর আচরণ একজন নির্বাচিত প্রতিনিধির মানদণ্ড পূরণ করেনি এবং এতে কাউন্সিলের প্রতি জনআস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তিনি আচরণবিধি প্রশিক্ষণ নিতে প্রস্তুত বলে জানান।
সাবেক মেয়র আরও বলেন, তিনি কমিটির সিদ্ধান্ত মেনে নিলেও প্রক্রিয়ার কিছু বিষয় নিয়ে তাঁর আপত্তি আছে এবং সেগুলো তিনি স্থানীয় সরকার ও সমাজসেবা ন্যায়পালের কাছে উপস্থাপন করবেন।
একজন আইন উপদেষ্টা বিবিসি লন্ডনকে জানান, এ মামলাটি ন্যায়পালের কাছে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে, যাতে বিষয়টির স্বাধীন ও স্বচ্ছ পর্যালোচনা নিশ্চিত হয়।
এনফিল্ড কাউন্সিলের মুখপাত্র নিশ্চিত করেছেন যে ২১ নভেম্বর কাউন্সিলর ইসলাম মনিটরিং অফিসারের কাছে ক্ষমাপত্র জমা দিয়েছেন এবং কমিটির সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন।
কাউন্সিলের নিয়ম অনুযায়ী, মেয়ররা তাঁদের পদ ব্যবহার করে ব্যক্তিগত পরিচিতদের ভিসা প্রক্রিয়ায় তদবির করতে পারেন না, কারণ এটি নিরপেক্ষতা ও জনআস্থার প্রতি হুমকি সৃষ্টি করে।
ভিসা তদবিরে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগের পর এনফিল্ডের প্রাক্তন মেয়রের ক্ষমা প্রার্থনার ঘটনা স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক মহল ও অভিবাসন আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এখন নজর রয়েছে ন্যায়পালের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।
অনলাইন ডেস্ক
Comments: