মানুষের মস্তিষ্ক নেতিবাচক অভিজ্ঞতাকে ইতিবাচক ঘটনার তুলনায় অনেক বেশি সময় ধরে ধরে রাখে—নতুন গবেষণায় উঠে এসেছে এমনই চমকপ্রদ তথ্য। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানব মস্তিষ্কে প্রাকৃতিকভাবে একটি নেগেটিভিটি বায়াস কাজ করে, যার ফলে দোষারোপ বা কষ্টদায়ক স্মৃতি দীর্ঘস্থায়ী হয়, কিন্তু প্রশংসা দ্রুত হারিয়ে যায়।
নেতিবাচক অভিজ্ঞতা কেন এত গভীরভাবে মনে থাকে?
সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, দোষারোপ, অপমান বা কষ্টদায়ক ঘটনা মানুষের মনে গড়ে ২০ বছর পর্যন্ত থেকে যেতে পারে। অন্যদিকে একটি প্রশংসা বা ইতিবাচক বক্তব্য মাত্র ৩০ দিনের মধ্যেই ফিকে হয়ে যায়।
এই বিশাল পার্থক্যের মূল কারণ হলো প্রাকৃতিক নেগেটিভিটি বায়াস—যা হাজার বছরের বিবর্তনের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে গড়ে উঠেছে।
মানব মস্তিষ্ক সবসময় বিপদ শনাক্ত করার জন্য তৈরি। এর ফলে নেতিবাচক অভিজ্ঞতা দ্রুত সেভ হয় এবং দীর্ঘস্থায়ী স্মৃতিতে রূপ নেয়।
নেতিবাচক স্মৃতির উপকারিতা—ভুল থেকে শেখা
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কঠিন অভিজ্ঞতা মানুষকে বাস্তব জীবনে শেখায়, সতর্ক করে এবং ভবিষ্যতে ঝুঁকি এড়াতে সাহায্য করে।
তাই মস্তিষ্ক নেতিবাচক তথ্যকে অগ্রাধিকার দেয় এবং সেই স্মৃতি ধরে রাখতে বেশি শক্তি ব্যয় করে।
কেন প্রশংসা দ্রুত হারিয়ে যায়?
ইতিবাচক ঘটনা মনকে শক্তি দেয়, কিন্তু সেগুলোকে ধরে রাখার জন্য মস্তিষ্ক স্বাভাবিকভাবে বেশি চেষ্টা করে না। যদি কেউ সচেতনভাবে ইতিবাচক স্মৃতিকে ধরে না রাখে, তাহলে সেই অনুভূতিগুলো দ্রুত ম্লান হয়ে যায়।
মস্তিষ্ককে ইতিবাচক অভিজ্ঞতার প্রতি সংবেদনশীল করার উপায়
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত কিছু অভ্যাস গ্রহণ করলে মস্তিষ্ক ইতিবাচক অভিজ্ঞতাও দীর্ঘদিন ধরে রাখতে পারে—
কৃতজ্ঞতা চর্চা করা
ইতিবাচক মুহূর্তগুলো মনোযোগ দিয়ে উপভোগ করা
নিজের অর্জনগুলো লিখে রাখা বা স্মরণ করা
নিজেকে পুরস্কৃত করা
ইতিবাচক মানুষের সঙ্গে সময় কাটানো
নিয়মিত অনুশীলন মস্তিষ্ককে পুনর্গঠন করতে পারে, যা বিজ্ঞানীরা “নিউরোপ্লাস্টিসিটি” বলে থাকেন।
গবেষণা বলছে, নেতিবাচক অভিজ্ঞতা মস্তিষ্কে শক্তভাবে চিহ্ন রেখে যায়, কিন্তু প্রশংসা ও ভালো ঘটনা দ্রুত মুছে যায়। তবে সুখবর হলো—মানব মস্তিষ্ক অভিযোজ্য। নিয়মিত ইতিবাচকতা চর্চা করলে মস্তিষ্ক ইতিবাচক ও নেতিবাচক স্মৃতির মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করতে পারে। ফলে জীবনযাপন হয় আরও স্বাস্থ্যকর, স্থিতিশীল এবং সুখময়।
অনলাইন ডেস্ক
Comments: