যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃহৎ গবেষণায় দেখা গেছে, অবিবাহিত নারী-পুরুষদের মধ্যে ক্যানসারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি, যা জনস্বাস্থ্য মহলে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
বিয়ে শুধু সামাজিক বা পারিবারিক সম্পর্ক নয়, এটি স্বাস্থ্যের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে—এমনই তথ্য উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বিস্তৃত গবেষণায়। ‘ক্যানসার রিসার্চ কমিউনিকেশনস’ সাময়িকীতে প্রকাশিত এই গবেষণায় প্রায় ৪৩ লাখ ক্যানসার রোগীর তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়, যা ৩০ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রায় ১০ কোটি মানুষের ওপর ভিত্তি করে তৈরি।
গবেষণায় দেখা যায়, অবিবাহিত পুরুষদের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বিবাহিতদের তুলনায় প্রায় ৭০ শতাংশ বেশি। বিশেষ করে তাদের মধ্যে মলদ্বারের ক্যানসারের হার প্রায় পাঁচ গুণ বেশি। অন্যদিকে, অবিবাহিত নারীদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বেশি—বিবাহিতদের তুলনায় প্রায় ৮৫ শতাংশ বেশি, এবং জরায়ুমুখের ক্যানসারের হার তিন গুণ বেশি পাওয়া গেছে।
গবেষণায় আরও উল্লেখ করা হয়, বিবাহিত কৃষ্ণাঙ্গ পুরুষদের মধ্যে ক্যানসারের হার বিবাহিত শ্বেতাঙ্গ পুরুষদের তুলনায় কম। এটি ইঙ্গিত দেয় যে, কিছু জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে বিবাহ একটি শক্তিশালী সুরক্ষামূলক উপাদান হিসেবে কাজ করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিবাহিত জীবনে সঙ্গীর প্রভাবে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং ঝুঁকিপূর্ণ অভ্যাস কমানোর প্রবণতা বাড়ে। এছাড়া, স্থিতিশীল সম্পর্কের কারণে এইচপিভি সংক্রমণের ঝুঁকি কমে, যা জরায়ুমুখ ও মলদ্বারের ক্যানসারের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। মাতৃত্বও নারীদের কিছু ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে ভূমিকা রাখে।
গবেষকরা পরামর্শ দিয়েছেন, যারা অবিবাহিত, তাদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও ক্যানসার স্ক্রিনিংয়ের প্রতি আরও সচেতন হতে হবে। একইসঙ্গে সামাজিক সহায়তা ও স্বাস্থ্যকর জীবনধারা বজায় রাখা ক্যানসার ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
অনলাইন ডেস্ক
Comments: