১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ৭ ফাল্গুন ১৪৩২
ধর্ম
কখন ও কীভাবে রমজান ফরজ হলো: ইসলামি ইতিহাসে রোজার বিকাশের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ

image

মক্কা-মদিনায় আগে থেকেই রোজার রীতি থাকলেও হিজরি দ্বিতীয় বর্ষে কোরআনের আয়াতের মাধ্যমে রমজান মাসব্যাপী রোজা মুসলমানদের জন্য ফরজ করা হয়। কীভাবে ধাপে ধাপে এটি ইসলামের অন্যতম স্তম্ভে পরিণত হলো—জানুন বিস্তারিত। ইসলামের শুরুতে রোজা ছিল আংশিক ও নফল ইবাদত। তবে ৬২৪ খ্রিষ্টাব্দে (হিজরি ২য় বর্ষে) রমজানের রোজা বাধ্যতামূলক ঘোষণা করা হয়। ইতিহাস ও গবেষকদের বক্তব্যে উঠে এসেছে রোজার প্রাথমিক বিধান, পরিবর্তন এবং চূড়ান্ত রূপ লাভের ঘটনা।

ইসলাম ধর্মের আগেও বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে উপবাস বা রোজার প্রচলন ছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইহুদি সম্প্রদায়সহ বহু জাতির মধ্যে সারাদিন পানাহার থেকে বিরত থাকার ধর্মীয় রীতি ছিল।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামী শিক্ষা বিভাগের অধ্যাপক ড. শামসুল আলমের ভাষ্যমতে, কোরআনে উল্লেখ রয়েছে যে পূর্ববর্তী জাতির ওপরও রোজা ফরজ ছিল—যদিও তা বর্তমানের মতো একমাসব্যাপী ছিল না।

মক্কা যুগে রোজা

ইসলামের নবী মক্কায় অবস্থানকালে নিয়মিত ৩০ দিনের রোজা ফরজ ছিল না। তবে তিনি চান্দ্র মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে (আইয়ামুল বিজ) নফল রোজা রাখতেন। এছাড়া আশুরার দিনেও রোজা পালনের প্রচলন ছিল।

হিজরত ও ফরজ হওয়ার ঘটনা

৬২২ খ্রিষ্টাব্দে মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের পর হিজরি সাল গণনা শুরু হয়। হিজরি দ্বিতীয় বর্ষে, রমজান মাসে কোরআনের আয়াত নাজিলের মাধ্যমে মুসলমানদের জন্য একমাস রোজা ফরজ করা হয়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের গবেষকরা জানিয়েছেন, এটি কোনো নির্দিষ্ট ঘটনার প্রেক্ষিতে নয়; বরং শরিয়তের বিধান পরিপূর্ণ করার অংশ হিসেবেই রোজা ফরজ করা হয়।

ধাপে ধাপে রোজার বিধান

প্রথমদিকে রোজা রাখার ক্ষেত্রে কিছু শিথিলতা ছিল। কেউ অক্ষম হলে ফিদইয়া দেওয়ার সুযোগ পেতেন।
পরবর্তীতে সবার জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়।

শুরুর নিয়ম অনুযায়ী, এশার আজানের পর থেকে পরদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত খাবার নিষিদ্ধ ছিল। এতে কষ্ট হওয়ায় পরবর্তীতে সুবেহ সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত রোজার চূড়ান্ত বিধান নির্ধারিত হয়—যা আজও অনুসৃত হচ্ছে।

নবী আদম (আঃ)-এর সময় মাসে তিনদিন রোজার প্রচলন ছিল।

নবী দাউদ (আঃ) একদিন পরপর রোজা রাখতেন।

নবী মুসা (আঃ) তুর পাহাড়ে প্রথমে ৩০ দিন এবং পরে আরও ১০ দিন মিলিয়ে ৪০ দিন রোজা রেখেছিলেন।

মদিনায় এসে আশুরার রোজা পালনের রীতি দেখে ইসলামের নবী নিজেও তা পালন করেন।

সে সময় সেহরি ও ইফতারে খেজুর, পানি, দুধ ও মাংস প্রধান খাবার ছিল।

রমজান মাসের রোজা ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের একটি—ঈমান, নামাজ, যাকাত ও হজ্জের সঙ্গে এটি সমান গুরুত্ব বহন করে। প্রাথমিকভাবে আংশিক ও নফল ইবাদত হিসেবে প্রচলিত থাকলেও হিজরি দ্বিতীয় বর্ষে এটি ফরজ বিধানে রূপ নেয়। ধাপে ধাপে বিধানের পরিবর্তনের মাধ্যমে রোজা আজকের চূড়ান্ত কাঠামো লাভ করে এবং বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের জীবনে এটি অবিচ্ছেদ্য অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছে।













অনলাইন ডেস্ক

ভিডিও
Comments:
Sponsered Ad
Advertisement Advertisement Advertisement Advertisement Advertisement Advertisement Advertisement Advertisement

loading