২৪ ঘণ্টায় বিশ্বজুড়ে ৯৪টি ভূমিকম্প রেকর্ড করেছে আর্থকোয়াকট্র্যাকার ডটকম—বাংলাদেশে ঘন ঘন কম্পনে বাড়ছে আতঙ্ক। শুক্রবারের পর শনিবার রাজধানী ও আশপাশে টানা তিনবার মৃদু ভূমিকম্প; বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের ঘনত্ব কোনোভাবেই স্বাভাবিক নয়।
বিশ্বব্যাপী ভূমিকম্প মনিটরিং প্ল্যাটফর্ম আর্থকোয়াকট্র্যাকার ডটকম জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে মোট ৯৪টি ভূমিকম্প রেকর্ড হয়েছে। শুক্রবার বাংলাদেশের রিখটার স্কেলে ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্পের রেশ কাটতে না কাটতেই শনিবার রাজধানী ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় ৮ ঘণ্টার ব্যবধানে আরও তিনবার মৃদু কম্পন অনুভূত হয়।
এই ঘন ঘন কম্পনের বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন। তাঁদের মতে, এমন ধারাবাহিক ভূকম্পন ভূ-অবস্থানগত অস্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দেয় এবং এটি কখনোই ভালো লক্ষণ নয়।
এদিকে শুক্রবারের ভূমিকম্পে দেশে এখন পর্যন্ত শিশুসহ ১০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নরসিংদীতে পাঁচজন, ঢাকায় চারজন এবং নারায়ণগঞ্জে একজন মারা গেছেন। আতঙ্কে ভবন থেকে লাফিয়ে পড়ে কিংবা হুড়োহুড়িতে অনেকেই আহত হন। বিভিন্ন এলাকায় ভবনে ফাটল ও হেলে পড়ার ঘটনাও দেখা গেছে।
শনিবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিট ১২ সেকেন্ডে সেদিনের প্রথম মৃদু কম্পন রেকর্ড হয়, যার মাত্রা ছিল ৩.৩। এর উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদীর পলাশ, ঢাকা থেকে মাত্র ২৯ কিলোমিটার দূরে।
এরপর সন্ধ্যায় রাজধানীর বাড্ডায় টানা দুটি কম্পন অনুভূত হয়। আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির জানান—
প্রথম কম্পন: সন্ধ্যা ৬টা ৬ মিনিট ৪ সেকেন্ড, মাত্রা ৩.৭, উৎপত্তিস্থল বাড্ডা।
দ্বিতীয় কম্পন: ৬টা ৬ মিনিট ৫ সেকেন্ড, মাত্রা ৪.৩, উৎপত্তিস্থল নরসিংদী।
মানুষ যখন প্রথম কম্পনের আতঙ্ক কাটিয়ে উঠতে পারেনি, ঠিক তখনই আরেকটি কম্পন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। বিভিন্ন এলাকায় ভবনে নতুন ফাটল দেখা গেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন—ঘন ঘন ভূমিকম্প সতর্ক সংকেত। তাই ভবন নিরাপত্তা, দুর্যোগ প্রস্তুতি ও ভূমিকম্প প্রতিরোধ সক্ষমতা আরও জোরদার করা জরুরি। একই সঙ্গে আতঙ্ক নয়, সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা।
অনলাইন ডেস্ক
Comments: